আসানসোলে নির্মীয়মান বাড়ির রিজার্ভারে মারণগ্যাস দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু এক যুবকের, ক্ষতিপূরণের দাবিতে ইএসআই হাসপাতালে বিক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ একটি নির্মীয়মান বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারের ভেতরে নেমে কাঠের পাটা খুলতে গিয়ে মারণ গ্যাসের ছোবলে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হলো এক যুবকের। পেশায় সে দিনমজুর। এই গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরো এক মিস্ত্রি। সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আসানসোল জেলা হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে আসানসোল উত্তর থানার কেএসটিপি বা কল্যানপুর স্যাটেলাইট টাউনশিপ রাস্তার সুগম পার্কে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত যুবকের নাম মনোজ বাউরি(২২)। অসুস্থ যুবকের নাম নির্মল রুইদাস (২৪)। দুজনেরই বাড়ি আসানসোলের সালানপুর থানার আঙ্গারিয়া গ্রামের মহুলা পাড়ায়।














এই ঘটনার খবর পেয়ে সন্ধ্যার পরে দুই যুবকের পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা আসানসোলের সেনরেল রোডের ইএসআই হাসপাতালে ছুটে আসেন। তারা মৃত যুবকের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতি পূরণ দেওয়ার দাবিতে হাসপাতাল চত্বরে পুলিশকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। তাতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি ঐ বাড়ির নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের খোঁজ করছে।
জানা গেছে, গত ৭ দিন ধরে আসানসোলের কেএসটিপি রোডের সুগম পার্কের একটি নির্মীয়মান বাড়িতে জনৈক ছটু নামে এক ঠিকাদারের অধীনে দিনমজুরের কাজ করছিলো সালানপুরের বাসিন্দা মনোজ বাউরি, নির্মল রুইদাস সহ বেশ কয়েকজন। মঙ্গলবার বিকেলে ঐ ঠিকাদার মনোজকে ঐ বাড়ির সিঁড়ির নিচে আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারের ভেতর নেমে কাঠের পাটা খুলতে বলে। সেইমতো সে রিজার্ভারের ভেতরে নামে। মিনিট কয়েক পরে উপরে থাকা মিস্ত্রি নির্মল রুইদাস ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ পায়।
তখন সে রিজার্ভারের ঢাকনার ছোট মুখ দিয়ে দেখে ভেতরে পড়ে আছে মনোজ। সঙ্গে সঙ্গে সে নিচে নামে। কিন্তু সে বুঝতে পারে, সেখানে গ্যাস আছে। যাতে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাই সে উপরে উঠতে চেষ্টা করে। তার আওয়াজে সঙ্গে কাজ করা আসানসোল উত্তর থানার নুনি গ্রামের বিশ্বদেব রুইদাস সহ অন্যান্যরা দৌড়ে আসে। অভিযোগ, কিছু একটা হয়েছে বুঝতে পেরে ঠিকাদার ছটু মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তাদের চিৎকারে আশপাশের বাসিন্দারা দৌড়ে আসেন। তারা আসানসোলে উত্তর থানায় খবর দিলে পুলিশ আসে। সকলের চেষ্টায় বেশ কিছুক্ষুন পরে রিজার্ভারের ভেতর থেকে দুজনকে উদ্ধার করে পুলিশ আসানসোল ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে চিকিৎসক মনোজ বাউরিকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নির্মলকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে মনোজ ও নির্মলের পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তারা ঠিকাদারকে নিয়ে এসে পরিবারকে ক্ষতি পূরণ দেওয়ার দাবিতে পুলিশকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন।
বিশ্বদেব রুইদাস বলেন, আমরা বাড়ির মালিক কে জানিনা। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ঠিকাদার ছটুর আন্ডারে সাতদিন ধরে কাজ করছিলাম। বিকেলে ঐ ঠিকাদার দাঁড়িয়ে থেকে মনোজকে রিজার্ভারের ভেতরে পাঠা খুলতে নামায়। যখন এই ঘটনা ঘটছে তখন ঠিকাদার সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়।
সালানপুরের আঙ্গারিয়া গ্রামের মহুলা পাড়ার বাসিন্দা মনোজের পরিচিত বাবন রুইদাস ও মিতন বাউরি বলেন, মনোজ পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলো। বাড়িতে তিন বোন, মা ও বাবা আছে। বাবার হাত ভেঙে যাওয়ায় মনোজ কাজে নামে। এখন তার মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের কি হবে? আমাদের দাবি, পরিবারকে ক্ষতি পূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা পুলিশ প্রশাসনকে করতে হবে। যতক্ষণ তা না হবে, ততক্ষণ এই বিক্ষোভ চলবে।
প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকদের অনুমান ঐ রিজার্ভারের ভেতরে কোন ভাবে কার্বন মনোক্সাইড বা মিথেন জাতীয় বিষাক্ত মারণ গ্যাস জমেছিলো। এরা ভেতরে নামতেই তারা সেই গ্যাসের ছোবলে চলে আসে। তাতেই তাদের দমবন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঠিকাদারের খোঁজ করা হচ্ছে।





