শাসক দলের কোন্দল প্রকাশ্যে, সাধারণ সম্পাদকের তোপের মুখে কি জেলা সভাপতি, যোগ্যতা নিয়ে তুললেন প্রশ্ন
বেঙ্গল মিরর, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত আসানসোলঃ বাবুল সুপ্রিয় দলবদল করায় আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই নির্বাচনে আসানসোল কেন্দ্রের পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিন্হা ১ লক্ষ ভোটের লিড পেয়েছিলেন। ঠিক তার দুবছর পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই পান্ডবেশ্বর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহা লিড অনেকটাই কমে যায়। তা হয় ৪০ হাজার ভোট। ২০২৬ সালে বঙ্গে বিধান সভা নির্বাচন। তার মাত্র কয়েক মাস আগে সেই ভোটের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু। ঘটনাচক্রে এই পান্ডবেশ্বর বিধানসভার বিধায়ক হলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃনমুল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। মাস খানেক আগেই দল নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে দ্বিতীয়বারের জন্য জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে। তারপর তিনি গোটা জেলা জুড়ে ব্লক কর্মী সম্মেলন প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন।














তারই মধ্যে, ভি শিবদাসন ওরফে দাসুর একটি সোশাল মিডিয়ায় লাইভ করা একটি বক্তব্যে প্রকাশ্যে চলে এলো পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল। তাতে তিনি সরাসরি কারোর নাম অবশ্য করেননি। তবে, তার লক্ষ্য ও বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলের জেলা সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেই তোপ দেগেছেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু। নিজের ফেসবুকে তিনি রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গে দলের নেতাকে আক্রমণ করেছেন । তবে যে কোন কারণেই হোক কিছুক্ষণ মধ্যেই তার লাইভ করা সেই বক্তব্য ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়। ততক্ষণ ভি শিবদাসন ওরফে দাসুর সেই ফেসবুক লাইভ ভাইরাল (সেই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয় নি ) হয়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে যায় । ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দাসু দাবি করেছেন, বিজেপির সঙ্গে ‘হাত’ মিলিয়ে চলছেন জেলা ঐ নেতা। এখানেই শেষ নয়, সেই নেতার দল চালানোর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভি শিবদাসন ওরফে দাসু ।
দাসু তার বক্তব্যে দাবি করেছেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন ঐ নেতা । সবমিলিয়ে দলের সর্বনাশ ডেকে আনছেন ঐ নেতা। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে ঐ নেতা বিজেপির টিকিট পেতে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ভি শিবদাসন ওরফে দাসু এর পাশাপাশি, দলের বিধায়ক হওয়া ঐ নেতার একাধিক প্রশ্ন তুলে তোপ দেগেছেন। তার জেলা সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ।
তার বক্তব্য, ২০২২ সালে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহা ১ লক্ষ ভোটে লিড পেয়েছিলেন। কিন্তু দু’বছর পর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঐ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর লিড কমে ৪০ হাজার ভোট হয়। এখানেই দাসুর প্রশ্ন, কি করে মাত্র দুবছরে ৬০ হাজার ভোট কমল ? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় দলের রেজাল্ট কি হবে, তা নিয়েও চিন্তিত এই নেতা।
তবে, দাসুর বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই তা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি।
আসানসোল পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র তথা পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি দাসুর বক্তব্যে সহমত পোষণ করে বলেন, পুরোটা না হলেও কিছুটা সত্যি কথা তিনি বলেছেন। অত্যাচার তো করা হচ্ছে গোটা জেলা জুড়ে। এর পেছনে কে আছে, সবাই জানে। তার বক্তব্য, ২০২১ সালে তিনি পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক বিজেপিতে আসতে চেয়েছিলেন কি না আমি বলতে পারবো না। কিন্তু এখন তিনি বিজেপিতে আসতে চাইছেন। কিন্তু দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই ধরনের নেতাদেরকে দলে কোনভাবেই জায়গা দেওয়া হবে না। যারা দেশবিরোধী বক্তব্য রাখেন৷ , অত্যাচারে মদত দেন ও এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।
প্রসঙ্গতঃ, ভি শিবদাসন ওরফে দাসু আসানসোল তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলায় শাসক দলের প্রথম সারির নেতা। বলতে গেলে একেবারে প্রথম দিকে কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে আসেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছের নেতাদের মধ্যে অন্যতম ভি শিবদাসন ওরফে দাসু তৃনমুল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টারের দায়িত্বে রয়েছেন।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম বর্ধমান জেলার নেতার মুখে এমন বক্তব্যে শোরগোল পড়েছে শাসক দলের অন্দরে। তবে, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দাসুর এই বক্তব্য নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি।

