দুর্গাপুরে মিঠুন চক্রবর্তী,বাংলায় সরকার বদল করতে হবে, তবে গনতন্ত্র আসবে, গানে রাজনৈতিক বিতর্ক
বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আবারও বাংলায় সরকার বদলের ডাক দিলেন বঙ্গ বিজেপির অন্যতম মুখ বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের এ জোনের নেতাজি ভবন অডিটোরিয়ামে বিজেপির তরফে এক কর্মীসভার আয়োজন করা হয়েছিলো। সেই কর্মীসভার মুল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই, অভিজিৎ দত্ত, চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্য নেতৃত্বরা। এছাড়াও ছিলেন মণ্ডল ও বুথ স্তরের কর্মীরা।















বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই মিঠুন চক্রবর্তীকে সম্মানিত করেন। এরপর প্রদীপ জ্বালিয়ে সভার উদ্বোধন হয়।সভায় উপস্থিত বিজেপির কর্মীরা এলাকার নানা সমস্যা ও সংগঠনের কাজ করতে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। সেইসব কিছু মনোযোগ সহকারে শোনেন মিঠুন চক্রবর্তী। ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কি ভাবে বুথ স্তরে দলের সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে দলের কর্মীদেরকে দিক নির্দেশ মিঠুন চক্রবর্তী। সভা শেষে সাংবাদিক মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নের উত্তরে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, আমাদের দলের কোন ট্যাগ লাইন নেই। আমরা নিজেদেরকে হিন্দু বলি ঠিকই। আমরা সনাতনী। হিন্দুত্ব সনাতনী হলো আমাদের উৎস।
রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে এক প্রশ্নের উত্তরে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, বাংলাকে বদলাতে হবে। বাংলার সরকার বদল করতে হবে। তবেই গনতন্ত্র আসবে। একমাত্র সরকার বদলালেই বোঝা যাবে ” ডেমোক্রেসি ” কাকে বলে। অভয়ার বাবা-মায়ের ডাকা নবান্ন অভিযানের পরে বিজেপির একাধিক নেতা ও কর্মীর নামে এফআইআর করা হয়েছে। হাওড়া পুলিশ তাদেরকে নোটিশ দিয়ে ডেকে পাঠাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, এটাই হচ্ছে বাংলার পুলিশ। সবাই দেখতে পাচ্ছেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তার মন্তব্য, আপনারা তো আরো ভালো করে জানেন।আরজি করের ঘটনার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় , এটাই যে, কেউ অভয়া নিয়ে কিছু বলছে না। বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটা মেয়ে চলে গেলো। কি করে গেলো, এটা কেউ ভাবছে না। এখন সবাই অন্য কিছু বলছে। কেউ আমার কাছে আসেনি। যদি আসত, আমরা অবশ্যই দেখতাম কি করা যায়। কিন্তু সবাই এড়িয়ে যাচ্ছে।কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিহারে ভোটার তালিকায় এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনশিভ রিভিশন কার্যকর করা নিয়ে দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, সবাই বলছে এটা শুধু বাংলায় করা হবে। শুধু বাংলায় নয়, অন্যান্য রাজ্যেও এটা কার্যকর হচ্ছে। বাংলাতেও হবে। কিন্তু তারজন্য সরকার বদলাতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট যদি নির্দেশ দেয়, তা তো সবাইকেই মানতে হবে। এদিন দলের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কোন জায়গায় আছে? এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ এর তুলনায় বাংলার বিজেপি অনেক সংঘবদ্ধ জায়গায় আছে। কর্মীরা সবাই লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি কি ২০২৬ সালের ভোটে কি দলের প্রার্থী হবেন? সরাসরি হ্যা বা না মিঠুন চক্রবর্তী বলেননি। খানিকটা ধোঁয়াশা রেখে তার মন্তব্য, এটা তো আমি ঠিক করতে পারিনা। এটা দল ঠিক করে।
রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি বঙ্গ শিবিরে মিঠুনের এই বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ এর মতো ২০২৬ এ বাংলায় নির্বাচনকে সামনে রেখে বলতে গেলে এক বছর আগে থেকেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মিঠুন চক্রবর্তীকে মাঠে নামিয়েছে। জেলায় জেলায় গিয়ে তিনি দলের কর্মীদের নিয়ে সভা সম্মেলন করছেন। তাদের কথা শুনছেন। এর সাফল্য কতটা বিজেপি ঘরে তুলতে পারে, তা সময় বলবে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
পুরনো হিন্দি সিনেমার গানে রাজনৈতিক বিতর্ক, আক্রমণ তৃনমুলের
* ” মুঝকো পিনা হ্যায়, পিনে দো”…। ৯০ এর দশকের মিঠুন চক্রবর্তীর সিনেমার এই গান নিয়ে মঙ্গলবার ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলো। এই গান নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের নেতাজি ভবনে বিজেপির কার্যকর্তা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিলো। সাজানো মঞ্চে তখনো বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চক্রবর্তী আসেননি। তার আগে মঞ্চে লাগানো মাইকে বেজে উঠে — “মুঝকো পিনা হ্যায়, পিনে দো”! ১৯৯৩ সালের মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত বলিউড ছবি ‘ফুল আউর অঙ্গার’ সিনেমার এই গান। সিনেমায় দেখানো হয়েছে হতাশায় ডুবে নায়ক নেশায় এই গান করছেন। কিন্তু দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মঞ্চে এই গান বাজতেই চড়লো পারদ।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “এখন ভোট চাইবার আগে বোতল চাইছে বিজেপি! ঐ দল তো আগেই হোঁচট খাচ্ছিলো। এবার গান শুনে পুরো দুলে যাবে।” তিনি আরও যোগ করে বলেন, রাজনীতির মঞ্চে মদ্যপানের গান বাজানো মানে মানুষের সমস্যাকে উপহাস করা। পাল্টা জবাব দিতে দেরী করেনি পদ্ম শিবির। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, গান শোনানো মানেই নেশা নয়। এটা শুধুই বিনোদনের জন্য বাজানো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র দিল্লিতে কি করেছে সেটা সবাই দেখেছে। আর এখানে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনীতি না পেলেও, গানেও রাজনীতি খুঁজে পায়।


