দুর্গাপুর এনআইটির অনুষ্ঠানে বিড়ম্বনা, পড়ুয়ার প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুর্গাপুরের ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি বা এনআইটির পড়ুয়ার সরাসরি প্রশ্নের মুখে রীতিমতো অস্বস্তিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড: সুকান্ত মজুমদার। প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই মন্ত্রীর পাশে থাকা এনআইটির ডাইরেক্টর পড়ুয়ার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। শুক্রবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলের মধ্যে শুরু হয় হট্টগোল।














একইসঙ্গে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা।ঐ পড়ুয়াকে কেউ বানিয়ে পাঠিয়েছে, পরে সাফাই দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে ভারতবর্ষের এই অবস্থা। আর সেই জন্যই পড়ুয়াদের মধ্যেও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ প্রকাশ বলে কটাক্ষ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের।দুর্গাপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে শুক্রবার ” বিকশিত ভারত এবং আত্মনির্ভর ভারত ” শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের নিয়ে করা হয়েছিলো। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড: সুকান্ত মজুমদার সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সরাসরি আত্মনির্ভর ভারত এবং বিকশিত ভারত নিয়ে পড়ুয়াদের কাছ থেকে সমাধান জানতে চান।
তখনই এক পড়ুয়া সুকান্ত মজুমদারের কাছে প্রশ্ন তোলেন, ভারতবর্ষের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কোথায়? রাজস্থানে ছাদ ভেঙে সাত পড়ুয়ার মৃত্যুর উত্তর কোথায়? আরেক পড়ুয়া প্রশ্ন তোলেন, জাতি সংরক্ষণ নিয়ে। তখন সুকান্ত মজুমদার বলেন, আমি প্রশ্ন জানতে চাইনি। এর সমাধান জানতে চেয়েছি। দরকার হলে তাদের একদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দিলে তারা কি করবে? তবুও দুই পড়ুয়া কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর সাথে কার্যত তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
আয়ুস বেনুয়া নামের পড়ুয়া বলেন, ভারতবর্ষের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। রাজস্থানের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সেই বিষয়ে আপনারা কি ভাবছেন? এই প্রশ্ন আমি করেছিলাম। কিন্তু কোন উত্তর পাইনি। উল্টে প্রতিমন্ত্রী রেগে গেলেন। আমার কাছ থেকে মাইক কেড়ে নিলেন ডিরেক্টর স্যার। পাল্টা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড: সুকান্ত মজুমদার বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমার মৌলিক অধিকার কোথায় খর্ব করা হয়েছে? সে তো কিছুই বলতে পারল না। আগে দেখতে ও ভাবতে হবে, আমি কি করেছি। কেউ বানিয়ে পাঠিয়েছে হয়তো। জাতি সংরক্ষণ বিষয় সাংবিধানিক ব্যাপার।এর পাশাপাশি এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি, গুলশন কলোনিতে যা হয়েছে, তা তো হওয়ার মতো পরিস্থিতি বাংলার সব জায়গায় আছে। ওখানে তো বিধায়ক ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা দখলের লড়াই। তার আরো কটাক্ষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে লন্ডন বানাতে গেছিলেন। এখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তান হয়ে গেছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, ওরা কারোর কথা শোনেনা। কারোর কথার উত্তর দেয়না। ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা শিক্ষিত। ওরা সুকান্ত মজুমদারের বানানো গল্প শুনবে কেন? তিনি আরো বলেন, এটাই বিজেপির ট্রাডিশন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে ভয় পান। সেখানে তো এমনই হবে।একইসঙ্গে, জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, উনি বলছেন কোন রাজনৈতিক দল পাঠিয়েছে। যে পড়ুয়া প্রশ্ন তুলেছিল সেই পড়ুয়া তো বিজেপি শাসিত রাজ্যের। আসলে মৌলিক অধিকার ভারতবর্ষের মানুষেরা পাচ্ছেন না। এদিন তারই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মন্ত্রীর সামনে করেছে। আর রেগে যাওয়ার বিষয় কিছু নেই। মানুষই ভোট দিয়ে সাংসদ করেছেন ওনাকে। মানুষের কথা না শুনলে তার পদ যাবে। সরকার কি করছে, তার কাজের জবাব তো তাকেই দিতে হবে।







