এবার নজর কাড়বে ৫০০ বছরেরও প্রাচীন খাঁ পরিবারের দুর্গাপুজো
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : কয়লাঞ্চলে এবার নজর কাড়বে ৫০০ বছরেরও প্রাচীন খাঁ পরিবারের দুর্গাপুজো। মুঘল রাজত্বের সময়কাল থেকে চলে আসা বক্তারনগর যার পূর্বে নাম ছিল দুর্গা নগর, সেই নাম পরবর্তীতে বক্তিয়ার খলজি আসার পর সেই গ্রামের নাম রেখে দেওয়া হয় বক্তানগর। পরবর্তীতে বহু লড়াই সংঘর্ষের পর নিজেদের অটুট রাখতে সক্ষম হয় খাঁ পরিবারের সদস্যরা। সে সময় বর্ধমান রাজার কাছ থেকে জমিদারি পাওয়া, জমিদার বংশের বনেদি আনার পুজো গুলির অন্যতম হল এই খাঁ পরিবারের দুর্গাপুজো, এবার তাদের দুর্গাপুজো ৫০০ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত করেছে। আর সেই পুজোর এবার দায়িত্ব পেয়েছেন সেই পরিবারের পূর্ব প্রজন্মের সূত্র ধরে চলে আসা মহেশ্বর খায়ের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য জয়দেব খাঁয়ের হাতে। তিনি প্রায় দীর্ঘ ৫৫ বছর পর এই পুজো করার দায়িত্ব পেলেন।














পালি অনুযায়ী সেই পুজো করার দায়িত্ব পেয়ে অন্য সকল বছরের ন্যায় এবছরও এই পুজোকে আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে বিশেষভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।রাণীগঞ্জের বক্তানগরের খাঁ পরিবারের দুর্গাপূজার একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। এই পূজায় বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা পুজোকে সকলের মাঝে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।এ বছর, প্যান্ডেলের থিম হচ্ছে রামেশ্বরম মন্দিরের প্রধান প্রবেশপথের উপর ভিত্তি করে, যা ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হবে। এছাড়াও প্যান্ডেলের মধ্যে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ চিত্রিত করা হয়েছে। আর তার সাথেই, দেবী দুর্গার ১০টি মহাবিদ্যা রূপও নিদারুণভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।
প্যান্ডেলটি রাজস্থানী নির্মাণ পদ্ধতি অনুসরণ করে, তৈরি করা হয়েছে, যা এর মহিমাকে আরও বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেছিলেন কুমার টুলির মৃৎশিল্পীরা, আর সাজসজ্জা ফুটিয়ে তুলেছে কৃষ্ণ নগরের সুদক্ষ কারিগর।জানা গেছে খাঁ পরিবারের জয়দেব খাঁ তার পরিবার ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই পূজার আয়োজন করে আসছে। তিনি বলেন যে তিনি এই বছর পূজা আয়োজনের সুযোগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন আর এতে তিনি এতে খুবই খুশি। রাণীগঞ্জ, বক্তারনগর, মদনপুর ও আশেপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত এই পূজায় অংশগ্রহণ করেন।এই বছর পূজার জন্য বিশেষভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে এবার বেনারসের থেকে গঙ্গা আরতি করা পণ্ডিতদের দেবী দুর্গার আরতি করার জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর তার সাথেই প্রতি বছরের মতো, যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হবে, যা এখানে একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। তদুপরি, এই বছর প্রথমবারের মত রামলীলা পরিবেশন করবে অযোধ্যার নাট্যদল আর তার সাথেই দশমীর দিন রাবণ দহন অনুষ্ঠিত হবে, যা মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়াবেই বলে দাবি করেছেন জয়দেব খাঁ। আর এ সকলের সাথেই ইসকনের ভজন ও সপ্তমীর থেকে চন্ডী পাঠের আসর বসছে সেখানে। সব মিলিয়ে জমজমাট একটা কর্মকান্ড পুজোর এই কটা দিন লক্ষ্য করবে খনি অঞ্চলের বাসিন্দারা বলেই দাবি করেছেন তারা।


