কয়লা ক্রাশারে জেসিবি চালকের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, ক্ষতি পূরণের দাবিতে রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া ও আসানসোল, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়ায় শুক্রবার রাতে কয়লা ক্রাশারে এক জেসিবি চালকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ছড়িয়েছে রহস্যও। চালকের মৃতদেহ ক্রাশার বা ফ্যাক্টরি থেকে দূরে অন্য জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়ার পরে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা দেহ নিয়ে যাওয়া পুলিশের গাড়ি আটকে মধুডাঙ্গায় রাস্তা অবরোধ করেন। তারা বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ক্রাশার কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করে সরব হন।














পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতের জেসিবি চালকের নাম শেখ দিলদার (২৩)। তিনি জামুড়িয়া থানার প্রেম বাজার এলাকার বাসিন্দাপ্রাথমিক তথ্য ও অন্য সূত্র থেকে বলা হচ্ছে যে জেসিবি মেশিন চালানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে চালক শেখ দিলদারের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনাটি লুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে৷ কারণ চালকের মৃত্যু ক্রাশার চত্বরে হয়েছে। কিন্তু দেহ খনি এলাকা থেকে দূরে উদ্ধার হয়েছে।এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার পুলিশ চালকের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলো। সেই সময় শতাধিক গ্রামবাসী মধুডাঙ্গার কাছে রাস্তায় পুলিশের গাড়ি আটকান। তারা ক্রাশার কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলা ও মৃত্যুর ঘটনা লুকানোর অভিযোগ তোলেন ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃত পরিবারের লোকজনদের আরো অভিযোগ, ঐ ক্রাশারে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। মৃত্যু ফ্যাক্টরিতে হয়েছে। কিন্তু দেহ পরে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এবং ফ্যাক্টরি ম্যানেজমেন্টের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে গোটা ঘটনাটি বলে দাবি তাদের। মৃত যুবকের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতি পূরণ দেওয়ার দাবিতে চলে অবরোধ বিক্ষোভ আন্দোলন। প্রায় দুই ঘণ্টা চলা রাস্তা অবরোধের পরে পুলিশ প্রশাসন এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ক্রাশার কতৃপক্ষের তরফে মৃত পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ এবং প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা সাহায্যের অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপরে গ্রামবাসীরা রাস্তা অবরোধ তুলে নেন। তারপর পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পরে কয়লা ক্রাশারের মালিক গা-ঢাকা করেছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে মৃত্যুর কারণ জানা গেছে। এই ঘটনায় একটা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, কোন দূর্ঘটনায় ঐ জেসিবি চালকের মৃত্যু হয়েছে। ক্রাশার কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানায়। উল্লেখ্য, জামুড়িয়া এবং আশেপাশের এলাকায় অবৈধ বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া চালু রয়েছে কয়লা ক্রাশার চলছে বলে অভিযোগ।


