RANIGANJ-JAMURIA

খনি অঞ্চলের সবথেকে বড় সাইবার প্রতারণা, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে

বেঙ্গল মিরর , চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : খনি অঞ্চলের সবথেকে বড় সাইবার প্রতারণা হল, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কেলেঙ্কারি,: যা নিয়ে মাথা ঘুরে যাওয়ার উপক্রম। জানা গেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ইতিহাসে, এখনো পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় সাইবার জালিয়াতির ঘটনা,যা এবার প্রকাশ্যে এসেছে।সাইবার প্রতারকেরা এক মাস ধরে ওই চিকিৎসককে নানান প্রলোভন দেখিয়ে তার একাউন্টে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ঢুকে যাবে এই জানান দিয়ে ইতিমধ্যে ১৫.৮৩ কোটি ৯০ হাজার টাকার বিনিয়োগ করিয়েছেনসাইবার অপরাধীরা, রানিগঞ্জের বাসিন্দা ডাক্তার অরুণ কুমার শর্মাকে।

জানা গেছে এক মাসের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি।খনি অঞ্চলে এই কয়েক বছরে কয়েক কোটি টাকার প্রতারণার ঘটনা ঘটলেও এখনো একযোগে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের (ADPC) ইতিহাসে সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে সবচেয়ে বড় পরিমাণ লুটপাটের এটি একটি নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। জানা গেছে একটি বিনিয়োগ কেলেঙ্কারিতে, সাইবার অপরাধীরা রানিগঞ্জের ডক্টরস কলোনির রামবাগানের বাসিন্দা পেশায় একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ অরুণ কুমার শর্মার থেকে ১৫, কোটি ৮৩ লক্ষ্য,৯০, হাজার, টাকা ২৪শে অক্টোবর, ২০২৫ থেকে ২৫শে নভেম্বর, ২০২৫ এর মধ্যে বিনিয়োগ করিয়ে ছিলেন।

জানা গেছে তিনি যখন তার টাকার পরিমাণ ২০০ কোটির মতো দেখতে পান সেসময় সেই তহবিল তুলতে যান, তখন অপরাধীরা কমিশন হিসেবে ১২.৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত জমা দেওয়ার দাবি করে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করেন, পরে শুক্রবার রাতে, তিনি আসানসোলের সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে, মামলা নম্বর ৭৭/২৫-এ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩১৬(২)/৩১৮(৪)/৩১৯(২)/৩৩৬(৩)/৩৩৮/৩৪০(২)/৬১(২) ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।

ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (সদর দপ্তর) ডঃ অরবিন্দ আনন্দ জানিয়েছেন যে একটি বিনিয়োগ কেলেঙ্কারিতে ১৫.৮৩ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জালিয়াতির ঘটনা বলে অনুমান তাদের।জানুন অপরাধীরা কীভাবে ডঃ শর্মাকে ফাঁদে ফেলেছিল,জানিয়ে জানা যায়, ডঃ শর্মা বলেছেন, যে তাকে মোনার্ক ভিআইপি নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছিল। ২৩শে অক্টোবর, তিনি গ্রুপে সাড়া দেন, যার পরে তাকে একটি ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হয়, যেখানে সে তার ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে রাজি করা হয়। তিনি গুগল প্লে স্টোর থেকে মোনার্ক অ্যাপ ডাউনলোড করেন। ২৪শে অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে, তিনি তার প্রথম ₹৫০,০০০ বিনিয়োগ করেন, যা তার অ্যাকাউন্টের বিবরণ ও ট্রেডিং অ্যাপ্লিকেশনের পরিমাণ থেকে প্রতিফলিত হয়েছিল।

দেখে এমনটা মনে হয়েছিল, যেন তার বিনিয়োগ শুরু হয়ে গেছে। মোনার্ক ভিআইপি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের গ্রুপ অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নামে পরিচয় দেওয়া এক মহিলা অনুশ্রী শাহ বলে নিজের পরিচয় দিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। এক্ষেত্রে সেই মহিলা বিশ্বাস অর্জনের জন্য, তারা এমনকি মোনার্ক নেটওয়ার্ক ক্যাপিটালের SEBI নিবন্ধন নিশ্চিত করে, জাল নথিও উপস্থাপন করেছিল। পরে, ২৪ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বরের মধ্যে, তিনি মোট ১৫.৮৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। যখন তিনি টাকা তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তখন তিনি তা করতে পারেননি। তাদের সাথে যোগাযোগ করার পর, তারা তাকে কমিশন হিসেবে অতিরিক্ত ১২.৫০ কোটি টাকা জমা দিতে বলে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।

জানা গেছে কমিশনারেটে এর আগে পর্যন্ত ৩ কোটি.৬৮ লক্ষ টাকার জালিয়াতির রেকর্ড ছিল।যা আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের-এলাকায় এর পূর্বে ডিজিটাল গ্রেফতারের মাধ্যমে, জালিয়াতির সবচেয়ে বড় এই রেকর্ড ছিল। চলতি বছরের জুন মাসে এটি ঘটে। আর বিনিয়োগ কেলেঙ্কারিতে সবচেয়ে বেশি প্রতারণার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৫৩ লক্ষ্য টাকা। আর এবার এই মামলাটি আসানসোলের সাইবার ক্রাইম থানায় ২৭ জুন, ২০২৫ তারিখে নথিভুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে চীন করিয়া, ভিয়েতনাম, সহ ব্যাংকক ও অন্য সব এলাকা থেকে এই সকল দুষ্কৃতকারীরা বহু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, এই সকল রেকেট চালিয়ে যাচ্ছে, যা মোকাবেলার জন্য আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম দপ্তর কতটা তৎপরতার সেটাই এখন দেখার। জানা গেছে খুবই দামী প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সকল সাইবার ক্রাইম করা হচ্ছে, যার মোকাবেলার জন্য কমিশনারেটকে আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেই প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে পুলিশের কাজ তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত বিষয়গুলিকে খতিয়ে দেখা তাদের কাজ টাকা উদ্ধার করে দেওয়া নয়।তাই এখন চুরি ডাকাতি ছিনতাই আম বিষয়, এখন সাইবার ক্রাইম বড় বড় ডাকাতির ঘটনাকেও হার মানাচ্ছে। জানা গেছে ইদানিংকালে প্রায় পঞ্চাশ ৬০ কোটির মত টাকা সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা এই খনি অঞ্চলের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে, যার বেশ কিছু ক্ষেত্রে উদ্ধারের জন্য তৎপর হয়ে কিছুটা সফলতাও পেয়েছে পুলিশ। এখন দেখার এই বিশাল পরিমাণ টাকা কিভাবে উদ্ধার করে সাইবার ক্রাইম দপ্তর।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *