আসেনি ইনুমেরেশন ফর্ম, ভোটার তালিকায় নাম উধাও, আতঙ্কে দুর্গাপুরের দম্পতি, মন্ত্রী ও প্রশাসনের দ্বারস্থ
বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিমবাংলায় এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। আর মাত্র ৯ দিনের মতো বাকি আছে এই এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে। তারই মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম ডিলিট হওয়া বা উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার দুর্গাপুর নগর নিগম ১৪ নং ওয়ার্ডে ওল্ড কোর্ট এলাকার বাসিন্দা ৮০ নম্বর বুথের ভোটার রঞ্জিত দে ও তার স্ত্রী মুন্নি দে। স্বাভাবিক ভাবেই দে দম্পতি বুঝে উঠতে পারছেন না যে, তারা এখন কি করবেন। তারা ইতিমধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ও দুর্গাপুরের মহকুমাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন। দুজনের কাছ থেকে দে দম্পতি আশ্বাস পেয়েছেন। তবুও তাদের আতঙ্ক কাটছে না। এমন পরিস্থিতিতে দে দম্পতি চিন্তিত ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে।















এই প্রসঙ্গে রঞ্জিত দে মঙ্গলবার বলেন, ২০০২ সাল থেকে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। শেষ দুটি ২০২১ এর বিধানসভা ও ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছি। ভোটার কার্ড ও আধার থাকা সত্ত্বেও ২০২৫-এর খসড়া তালিকায় আমার ও স্ত্রীর নামে ‘ডিলিট’ উল্লেখ থাকায় উদ্বেগ বেড়েছে। আমাদের ইনুমেরেশন ফর্মও আসেনি। বুঝতে পারছি না, কি করে এটা হলো। আমি মহকুমাশাসকের কাছে গিয়েও দেখা করেছি। তিনি আমাকে বলেছেন গোটা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের। আমাদের কিছু করার নেই। এখন আমাদের বলা হচ্ছে, ৬ নং ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি যতদূর জানি, সেটা তো নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য।
তিনি আরো বলেন, আমরা এখন চিন্তিত ছেলেকে নিয়ে। মুন্নি দে বলেন, মনে হচ্ছে বেঁচে থেকেও মরে গেছি। বিষয়টি রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারকে জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে সরকার লড়াই করছে এবং কেন এই ডিলিট হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মন্ত্রী এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে কমিশন এক একদিন এক একরকম নির্দেশিকা জারি করছে। বিএলওরা জানেন না, পরশু তাদের কি করতে হবে। অন্যদিকে, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোরুই বলেন, নির্বাচন কমিশনই নাম যুক্ত করে ও বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই দম্পতির ক্ষেত্রে কোন একটা সমস্যা হয়েছে। বিরোধীরা প্রচারের কারণেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখানে কোন একটা মিসটেক হয়েছে।


