আসানসোলে ” পরিবর্তন সংকল্প সভা” য় হুঙ্কার বিরোধী দলনেতার, ২০২৬ এ হবে আসল বদল, সঙ্গে বদলাও
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ ২০১১ সালে পরিবর্তন হয়নি। ২০২৬ এ হবে আসল পরিবর্তন ও বদল। তার সঙ্গে হবে বদলাও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার ডামরা হাটতলায় ঘুষিক ফুটবল ময়দানে বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার ডাকে হওয়া “পরিবর্তন সংকল্প সভা” য় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই হুঙ্কার দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই সভায় বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক ডাঃ অজয় পোদ্দার, প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি সহ অন্যান্য নেতারা এবং বিপুল সংখ্যায় কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।














সভায় শুভেন্দু অধিকারী হিন্দু ঐক্যের উপর জোর দিয়ে বলেন, এবারের ভোট আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিলে কেউ বিজেপিকে ক্ষমতায় আসা থেকে আটকে রাখতে পারবে না। সমস্ত অন্যায়ের জবাবদিহি ও দূর্নীতির তদন্ত করা হবে। তিনি আবারও আসানসোলের সভা থেকে কলকাতায় মেসিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে একটি বিশাল কেলেঙ্কারি হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল নেতারা ৩৫০ কোটি কেলেঙ্কারি করেছেন। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং সুজিত বসু শতদ্রু দত্তের কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে ২২,০০০ টিকিট নিয়েছেন। এই টিকিটগুলি তৃণমূল নেতা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দেওয়া হয়েছিল। এই টিকিটগুলির মধ্যে কিছু বিক্রি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ঘটনা কলকাতা এবং বাংলার জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয় । হায়দরাবাদ, মুম্বাই এবং দিল্লিতে মেসির অনুষ্ঠান কতটা জাঁকজমকপূর্ণভাবে করা হলো। কোথাও কোন সমস্যা হয় নি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিরোধী দলনেতা বলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ বিশ্বাসরা ঐ জায়গাগুলিতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, কলকাতার আরজি কর হোক বা দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজ, যেভাবে নারী ও মেয়েদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে, এর ফলে বাংলার নাম ইতিমধ্যেই কলঙ্কিত হয়েছে। ওড়িশা থেকে আসা মেয়ের বাবা বলেন যে তিনি আর তার মেয়েকে বাংলায় রাখতে চান না। কারণ বাংলা মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি জেলার তৃণমূল নেতাদেরকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, যাদের আর্থিক অবস্থা আগে খারাপ ছিল তারা ক্ষমতায় আসার পরে এখন বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। পাণ্ডেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্র চক্রবর্তী, বারাবানির নেতা অসিত সিং বা মন্ত্রী মলয় ঘটক, তারা প্রত্যেকেই দুর্নীতিতে ডুবে আছেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে তা প্রমাণ করে যে তারা কিভাবে জনসাধারণের টাকা লুট করেছে। আসল কথা হলো, তৃণমূলের জমানায় নেতা ও মন্ত্রীদের আসল পরিবর্তন হয়েছে। বাংলার মানুষের কোন পরিবর্তন হয়নি।
ঠিকাদাররা আসানসোল পুরনিগমের জন্য কাজ করতে অনিচ্ছুক
এই সভায় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আমি চাই শুভেন্দু অধিকারী আসানসোলের আর্থিক অনিয়মের দিকে নজর দিন। আসানসোল পুরনিগমের অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন থেকে তাদের পিএফের তহবিলের টাকা কেটে নেওয়া হয়, কিন্তু সেই টাকা তহবিলে জমা দেওয়া হয় না। এটা একটা অপরাধ। তারজন্য দোষীদের গ্রেপ্তার করা উচিত। তিনি আরো বলেন, আসানসোল পুরনিগমের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা তাদের পেনশন পাচ্ছেন না। ঠিকাদাররা আসানসোল পুরনিগমের জন্য কাজ করতে অনিচ্ছুক। কারণ টেন্ডারের আগেই তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া হচ্ছে। তাহলে ঠিকাদাররা কি করে লাভ করে কাজ করবেন?


