এসআইআর ও উন্নয়ন নিয়ে দুই মন্ত্রীর আক্রমণ, তিনদিনের মধ্যে জামুড়িয়ায় পাল্টা সভা তৃণমূলের
বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* তিন দিন আগে, গত ১৬ ডিসেম্বর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জামুড়িয়ার টাউন হল সংলগ্ন ময়দানে দলের বুথ কর্মী সম্মেলনে যোগ দিয়ে নানা ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করেছিলেন। ভাষণ দিয়েছিলেন। শুক্রবার ঠিক একই জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা সভা করলো। এই সভায় উপস্থিত আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক, পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিষ চক্রবর্তী ছাড়াও জামুরিয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং, পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি সহ এলাকার শাসক দলের নেতা ও কর্মীরা।














সভায় মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সম্প্রতি এখানে একটি কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখেছেন। বিরোধী দলনেতাকে কেবল একটি কথাই বলতে চাই, “একটা মাত্র বিধানসভায় কেন ? কেন প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সভা করবেন না? এমনকি যদি আপনারা প্রতিটি ওয়ার্ডে সভা করেন, তবুও বিজেপি এখানে জিতবে না। তৃণমূল সারা বছর জনগণের সাথে থাকে। কেবল মাত্র নির্বাচনের সময় নয়। অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা কেবল নির্বাচনের সময়ই আসেন। তিনি আরো বলেন, আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের মনে বিজেপি দুটিতে জিতেছে। আসানসোল দক্ষিণ এবং কুলটি। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল গতবার নির্বাচনে জিতেছিলেন। কিন্তু এবার তিনি আর জিতবেন না। কারণ গত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার নির্বাচনী এলাকায় তাকে দেখা যাচ্ছে না। এখন, নির্বাচন এগিয়ে আসার সাথে সাথে, তাকে নির্বাচনী এলাকায় এসে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এমন ব্যক্তিদের ভোট দেন, যারা তাদের জন্য কাজ করেন। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে প্রায় ১০০টির মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি কেবল মিথ্যা কথা বলে। আর ধর্ম নিয়ে ভোট চায় ও মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করে।
মন্ত্রী স্নেহাশিষ চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী জামুরিয়ায় একটি সভা করেছেন এবং অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে, এদিনের এই জনসভায় সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মীদের ভিড় দেখে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে শুভেন্দু অধিকারী সেদিন যা বলেছিলেন তার প্রভাব এখানকার মানুষের উপর কোনভাবেই পড়েনি। সভার উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখায় যে জনগণ কাকে সমর্থন করে। তিনি আরো বলেন যে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন যে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাত্র এক মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়াটি যেভাবে সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্য ঠিক নয়। তবে, এইসব করেও কিছু হবে না।


