BARABANI-SALANPUR-CHITTARANJAN

বারাবনির কয়লাখনিতে দূর্ঘটনা, ধসে আহত এক মহিলা

ইসিএলের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন, গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ

বেঙ্গল মিরর, বারাবনি ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বারাবনিতে সালানপুর এরিয়ার বেগুনিয়া কয়লাখনিতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় আরো একবার ইসিএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম গাফিলতিকে প্রকাশ্যে এনে দিলো। বারাবনির কাপিষ্টা গ্রামের বাসিন্দা মালা বাউরি (৫১) কয়লাখনি ধসে গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার ভোর আনুমানিক সকাল ৬টা ৩০ থেকে ৭টার মধ্যে ঐ কয়লাখনি এলাকার মধ্যে হঠাৎ একটি বিশাল কয়লার চাঁই তার উপর ধসে পড়ে। মালা বাউরি জানিয়েছেন, তিনি শনিবার সকালে ঐ কয়লাখনিতে কয়লা আনতে গেছিলেন। তখনই ঘটে এই ঘটনা।

এই দুর্ঘটনায় মালা বাউরির ডান হাত সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গিয়ে কয়েক টুকরো হয়ে গেছে। পাশাপাশি তার কোমরেও গুরুতর আঘাত লেগেছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রথমে তাঁকে কেলেজোড়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানেও শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেল বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার কমিটির সদস্য অভিজিৎ রায়।

তিনি এই ঘটনার জন্য ইসিএলকে দায়ী করেছেন। বিজেপি নেতা বলেন, কয়লাখনি এলাকায় তো ইসিএলের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা। সাধারণ মানুষ সেখানে কেন যাবে? এই মহিলার যা বয়স, তাতে তো তিনি সেখানে কয়লা চুরি করতে যাবেন, এটা কেউ বলবে না। তিনি তো বলেছেন, সে কয়লা আনতে গেছিলেন। বিজেপি নেতা আরো, গত একমাসে ইসিএলের সালানপুর এরিয়ায় তিনটি এই ধরনের ঘটনা ঘটলো। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যে এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ইসিএলের এলাকা। তা সত্ত্বেও সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী, ঘেরাও ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক বোর্ড বা কোনও ধরনের নজরদারি ছিল না। অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই প্রকাশ্য ঢিলেমির কারণেই খনি এলাকায় সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত চলে। যার ফলেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইসিএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতো, তাহলে এই প্রাণঘাতী ঘটনা সহজেই এড়ানো যেত। প্রশ্ন উঠছে, কিভাবে নিষিদ্ধ খনি এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্ভব হলো? সেই সময় ইসিএলের নিরাপত্তাকর্মীরা কোথায় ছিলেন।উল্লেখ্য , গত এক মাসে সালানপুর এরিয়ার একাধিক কয়লাখনিতে পরপর এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই নিরাপত্তার গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ উঠলেও এখনো পর্যন্ত কোন কঠোর পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, অবৈধ কয়লা কারবারে যুক্ত কয়লা মাফিয়া ও ইসিএলের একাংশ আধিকারিকদের যোগসাজশের কারণেই ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল রাখা হচ্ছে। আর এই যোগসাজশ বা আঁতাতের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ও দরিদ্র গ্রামবাসীদেরকে, নিজেদের জীবন বিপন্ন করে। চরণপুর হোক, ডাবর কোলিয়ারি হোক বা বেগুনিয়া কয়লাখনি, সর্বত্র একই ছবি।একের পর এক ঘটে চলা এই ঘটনাগুলি ইসিএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ঘটনার পর কি আদৌও দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি আগের ঘটনার মতো এটিও ধামাচাপা পড়ে যাবে?যদিও, বারাবনির এই ঘটনা ও তার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ ও দাবি নিয়ে ইসিএলের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hey there! Ask me anything!