বিদ্রোহী কবির জন্মভিটের সংগ্রহশালা হবে সংস্কার
চুরুলিয়ায় অবশেষে কাটলো জটিলতা, নতুন বছরেই শুরু কাজ
বেঙ্গল মিরর, চুরুলিয়া ( পশ্চিম বর্ধমান), রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্রোহ কবি কাজি নজরুল ইসলামের জন্মস্থান পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুড়িয়ার চুরুলিয়ায় কাজি নজরুল সংগ্রহ হল নিয়ে বিতর্ক চলছিলো। তৈরি হয়েছিলো একটা জটিলতাও। কাজি নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বলেছিলেন যে, কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কাজি নজরুল সংগ্রহশালাটি দখল করতে চাইছে। সরাসরি না বললেও, তাদের দাবি ছিলো যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটা কুক্ষিগত করতে চাইছে। যদিও, এই বিষয়টি কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বারবার অস্বীকার ও খন্ডন করে আসছিলো।তবে শেষ পর্যন্ত , সোমবার গোটা বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। যখন এদিন কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ডঃ অধ্যাপক উদয় বন্দোপাধ্যায় সহ অন্য আধিকারিকরা কবির জন্মভিটেতে আসেন। তারা সবকিছু খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পরিদর্শনও করেন।














উপাচার্য কবির পরিবারের সদস্য ও গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, বর্তমান সংগ্রহশালার ভবনের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। তাই রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তরের তরফে এর সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। যাতে সংগ্রহশালাটি সংস্কারের মধ্যে দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত, সংগ্রহশালায় থাকা কাজি নজরুল ইসলামের জিনিস কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও কবি পরিবারের সদস্যের নজরদারিতে চুরুলিয়ায় রাজ্য সরকারের যুব আবাসে রাখা হবে। পরে এখানকার সংগ্রহশালা সংস্কার হলে, তারপরে, সেগুলি ফিরিয়ে এনে সেখানে ফিরিয়ে আনা হবে।
এদিন চুরুলিয়ায় ডঃ অধ্যাপক উদয় বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক অদিতি গাঙ্গুলি, পশ্চিম বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক বা এডিএম কৌশিক সিনহা, জামুরিয়ার ব্লকের বিডিও তাপস পাল, নজরুল বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক ডঃ দীপঙ্কর মজুমদার, কবি প্রসেনজিৎ ঘোষ, সোনালি কাজি সহ পরিবারের সদস্য ও চুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।পরে ডঃ উদয় বন্দোপাধ্যায় বলেন, আমরা চাই কবি নামাঙ্কিত কাজি নজরুল সংগ্রহশালাকে নতুন রূপ দেওয়া হোক। কারণ আমি নিজে কাজি নজরুল ইসলামের মতো একজন মহান মানুষের ভক্ত। তাই আমরা সবাই চাই যে এই সমস্যাটি একটি ভালো পরিবেশে ও কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে সমাধান হোক। যা এদিন হয়েছে।
সোনালি কাজি এই প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে এদিন পূরণ হয়েছে। সংগ্রহশালা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত কবির স্মৃতিবিজড়িত সব জিনিস গ্রামের যুব আবাসে রাখা থাকবে। সংগ্রহশালা সংস্কার হয়ে গেলে, সেগুলো আবার এখানে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি আরো বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর কিউরেটর আসবেন চুরুলিয়ায়। তিনি সবকিছু দেখে কবির জিনিস ব্যাগের ভেতরে রাখবেন। সেগুলো যুব আবাসে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তা যত্নসহকারে রাখা থাকবে। এরপর নতুন বছরের একেবারে শুরুতে অর্থাৎ আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সংগ্রহশালা সংস্কারের কাজ শুরু হবে। গোটা কাজটি পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে হবে।


