দুর্গাপুর আদালতে সাজা ঘোষণা, দুই পড়শির বিবাদে মহিলাকে কুপিয়ে খুন, দোষী সাব্যস্ত যুবকের যাবজ্জীবন
বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুই পড়শির বিবাদে প্রতিবেশী এক মহিলাকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলো। মঙ্গলবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে অতিরিক্ত জজ ( দ্বিতীয়) প্রশান্ত কুমার সরকার সঞ্জয় ওরফে রানা সিং নামে ঐ যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনান। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের বিচারক ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০২, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৬ ও ৩৪১ নং ধারায় ঐ যুবককে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দান ও তথ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন বিচারক। এই মামলার সরকারি আইনজীবী বা পিপি হিসেবে ছিলেন চন্দন বন্দোপাধ্যায়।














ঘটনাটি ঘটেছিলো , ২০২২ সালের ১৫ জুলাই দুর্গাপুরের কাঁকসা থানার মুচিপাড়া কুসুমতলা এলাকায়। ঐ এলাকার বাসিন্দা মুনি মূর্মুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন নীলম মূর্মু নামে এক মহিলা। মুনিদেবী যখন বাড়িতে ছিলেন না, তখন প্রতিবেশী সঞ্জয় ওরফ রানা সিং তাকে গালিগালাজ করেন। পরের দিন সকালে তার প্রতিবাদ করায় রানা সিং ভোজালি দিয়ে মুনি মুর্মু (৩০)কে কোপায়। এ হামলায় গুরুতর জখম হন তার স্বামী উত্তম মুর্মু। যিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মুনি মুর্মুকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।ঘটনার পরেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁকসা থানার পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির পাঁচটি ধারায় মামলা করে পুলিশ। তদন্ত শেষে আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দেন মামলার আইও বা তদন্তকারী।
দীর্ঘ তিন বছরের বেশি বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে রানা সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালতের বিচারক ।এদিন এই মামলার সরকারি আইনজীবী চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই দোষী সাব্যস্ত যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক । এর মধ্যে ঐ যুবক আদালত থেকে জামিন পাইনি। তাই এটা কাস্টডি ট্রায়াল হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা।


