সিসিটিভি ফুটেজ লক্ষ্য করে পুলিশের জালে চোর
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : পুলিশের জালে ধরা পড়া চোরের একটাই আফসোস, লক্ষ লক্ষ টাকা চুরি করেও সব টাকা জুয়ায় হেরে গিয়েছে সে।নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের রানীগঞ্জ থানার পুলিশ ফের পেয়েছে সফলতা। রানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর বিকাশ দত্ত সময়কালে রানীগঞ্জ থানা এলাকায় 29 টি চুরির ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে রানীগঞ্জ থানা এলাকার মধ্যে ঘটে যাওয়া সবকটি চুরির কিনারা হয়েছে, তবে পাঞ্জাবি মোড় ও নিমচা এলাকায় কয়েকটি ছোট চুরির ঘটনার কিনারা করা বাকি রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে প্রায় 23 টির মত চুরির কিনারা করা গিয়েছে। এবার সেই চুরির ঘটনার একটি, যা রানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর বিকাশ দত্ত তার কাজের যোগ দেওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই ঘটে। সেই সেলামি জানানো চুরির ঘটনাটি ঘটেছিল 2024 সালের 20শে মার্চ, রানীগঞ্জের জগন্নাথ গার্ডেনে উমেষ দোকানিয়ার বাড়িতে। সে সময় তার বাড়ির মধ্যে দিয়ে তার দোকানের মধ্যে প্রবেশ করে, ক্যাশ বাক্স থেকে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা চুরি যায় বলেই অভিযোগ ওঠে। আর তারপরই ওই চোরের খোঁজে চলে জোর তল্লাশি, কিন্তু তার কোন হদিস পাওয়া যায় না। এরপর 2025 সালের 23 শে অক্টোবর রানীগঞ্জের কালিতলা সমিরন কুন্ডুর বাড়িতে ঘটে চুরির ঘটনা, সেখানে চুরি যায় নগদ কয়েক হাজার টাকা ও কয়েকটি সোনার গহনা। আর এই ঘটনার খোঁজ করতে গিয়ে এবার পুলিশ পেল বড় সফলতা।














কালি তলার চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে, পুলিশ তার সিসিটিভি ফুটেজ লক্ষ্য করে, তার ছবি তুলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানা এলাকায় সেই ছবি পাঠালে, বেশ কয়েকটি থানা থেকে ওই সিসিটিভির মধ্যে থাকা যে চোরের বিষয় উল্লেখ করা যায়, তার পরনে থাকা গেঞ্জি লক্ষ্য করেই, তার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অংশের ছবি সংগ্রহ করে, তা অন্য সকল পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আদান-প্রদান করে, চোরের হদিস পায়।
জানা যায় প্রায় সাড়ে 300 কিলোমিটার দূরে, উত্তর 24 পরগনার অশোকনগর থেকে আশরাফুল মন্ডল নামের বছর ত্রিশের এই ব্যক্তি রানীগঞ্জের কালিতলায় চুরির ঘটনা সংঘটিত করেছে। এরপরই বাইশে ডিসেম্বর ওই যুবককে, রানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর বিকাশ দত্তর নেতৃত্বে রানীগঞ্জ থানার পিসি পার্টির পুলিশ পারভেজ আলম ও প্রীতম পাল বিশেষ টিমকে নিয়ে, অশোকনগর এলাকা থেকেই গ্রেফতার করে। পরে ধৃতকে আসানসোল জেলা আদালতে হাজির করলে তাকে বিচারক ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু চুরির সামগ্রী উদ্ধারের সাথে পুলিশ জানতে পারে পূর্বের জগন্নাথ গার্ডেনের চুরির ঘটনাতে এই যুবক যুক্ত ছিল, পরবর্তীতে পুলিশ ধৃতকে আবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত পেলে জানতে পারে ধৃত ওই যুবক কিভাবে জগন্নাথ গার্ডেনে চুরির ঘটনা সংঘটিত করেছিল।
সে বিষয়টি জানানোর সাথেই কালিতলা এলাকায় চুরির সামগ্রী সে কোথায় কাকে দিয়েছে, সে কথাও জানান দেয়, জানা যায় নাজিমুল মন্ডল নামের দেও গঙ্গার বাসিন্দা কে সে এই চুরির সামগ্রী দেয়। পুলিশ এ ঘটনায় ওই ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করে, তাকেও রিমান্ডে নিয়ে এসে চুরি যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে। জানা গেছে এই আশরাফুল মন্ডল পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে ২৫ থেকে ত্রিশটিরও বেশি চুরির ঘটনা সংঘটিত করেছে। তবে তার আফসোস একটাই যে তার চুরির টাকা আর সহ্য হল না, জুয়া খেলে সব টাকায় উড়িয়ে ফেলেছে সে, রবিবার রানীগঞ্জ থানায় যাওয়ার পথে এমনই দাবি করে ওই ব্যক্তি।

