মমতার স্বৈরাচারী শাসন মুক্ত করতে, বাংলায় পরিবর্তন আনবোইঃ সুকান্ত মজুমদার
এসআইআর নিয়ে শাসক দলকে আক্রমণ
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি বুধবার সকালেই ঘোষণা করেছেন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ঘটনাচক্রে এদিন দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসানসোলে আছেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এদিন দুপুরে আসানসোলে ১৯ নং জাতীয় সড়ক লাগোয়া শীতলায় দলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের রাজ্য কমিটির পদাধিকারী ও সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, মমতার স্বৈরাচারী শাসন মুক্ত করবে রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি। বাংলায় আমরা পরিব আনবোই। এবার বাংলায় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গড়বে। সেই সরকার বাংলার মানুষদের জন্য কাজ করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে বাংলার মানুষের যেসব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাননি, নতুন সরকার এলে, তার সুবিধা তারা পাবেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো আয়ুষ্মান প্রকল্প। বিজেপি শাসিত সব রাজ্যের মানুষ সেখানকার রাজ্য সরকারের প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সব প্রকল্পের সুবিধা পান।














এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসআইআর, দূর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, পিসি ( মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তো বড় মিথ্যেবাদী, তা তো গোটা বাংলার মানুষেরা জানেন। এখন তার চেয়েও বড় মিথ্যেবাদী হয়েছেন ভাইপো ( অভিষেক বন্দোপাধ্যায়)। এসআইআর থেকে শুরু করে সব কিছু তে তারা মিথ্যে কথা বলেন।
সাংবাদিকরা এদিন সুকান্ত মজুমদারের কাছে জানতে চান, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চালু হওয়ার আগে, বিজেপি নেতারা দাবি করেছিলেন যে এখানে ১ কোটিরও বেশি রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশী মুসলিম লুকিয়ে আছে। কিন্তু খসড়া তালিকা থেকে মাত্র ৫৮ লক্ষ ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বারবার নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে যে সেই রোহিঙ্গারা কোথায় গেছে তা খুঁজে বার করা হোক। তাদের তালিকা প্রকাশ হোক। বিজেপি এই ব্যাপারে কি বলবে? এর উত্তরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের তৃণমূল কংগ্রেসকে জবাব দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। তারা আইন অনুসারে কাজ করছে।
এই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের জন্ম রূপোর চামচ হাতে নিয়ে। তাই তিনি মনে করেন নির্বাচন কমিশন তার প্রতিটি কথা শুনবে। ঠিক যেমন তার বাড়িতে কাজ করা লোকেরা করেন। কিন্তু তা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন কোনও তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি নেতার নির্দেশ শুনবে না। তারা আইন অনুসারে কাজ করবে।
গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতিতে যে বিশৃঙ্খলা কলকাতার বাবুঘারে দেখা যাচ্ছে সে সম্পর্কে ডঃ সুকান্ত মজুমদার বলেন, যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুধর্মকে একটি নোংরা ধর্ম বলছেন, তাই সেই হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের জন্য এই মেলার প্রস্তুতিতে অবশ্যই বিশৃঙ্খলা থাকবে। তিনি বলেন, এই সব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি সরকার গঠন করলে গঙ্গাসাগর মেলায় আগত সকল ভক্তদের জন্য স্থায়ী আবাসন তৈরি করা হবে। সেখানে সকল ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের জন্য কলকাতায় একটি হজ টাওয়ার তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু গঙ্গাসাগর মেলায় আসা হিন্দু ভক্তদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি এই সরকারের তরফে।
এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক, তার ভাই আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক ও তাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, আসানসোল রেলপার ড্রাগ মাফিয়াদের দখলে। অথচ এই রেলপার এলাকা মন্ত্রী মলয় ঘটকের বিধানসভায় রয়েছে। তাহলে কি করে এখানে ড্রাগ মাফিয়াদের কারবার চলতে পারে ?
আসানসোল পুরনিগমের পার্কিং প্লাজা কমার্শিয়াল প্লাজা হয়ে গেছে। আদিবাসীকে জয়শ্রী রাম বলায় হেনস্তা করা হচ্ছে। জোর করে জয় বাংলা বলানো হয়েছে। আসানসোল হিন্দুত্বের মাটি। এখানে ল্যান্ড বা জমি জেহাদ চলছে। মুসলিম তোষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো, আসানসোলে দুধেল গাইদের সন্তুষ্ট করার জন্য জেলা হাসপাতালে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অ্যাম্বুলেন্সে একজন রোগীর মৃত্যু হয়। তাছাড়া, রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবুও প্রশাসন অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর কারণ হল বেশিরভাগ দখলদারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুধেল গাই।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, মন্ত্রী মলয় ঘটকের ঘনিষ্ঠ দুই মুসলিম ব্যবসায়ী আসানসোল বাজারে অবৈধভাবে হিন্দুদের জমি দখল করছেন। এভাবে আসানসোলের চরিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আজ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর যে অত্যাচার চলছে, তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে আসানসোলে একই ধরণের ঘটনা ঘটলে অবাক হবো না। তাই, তিনি জনগণের কাছে আবেদন করেন যে আসানসোলে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি হওয়া আটকাতে ২০২৬ সালে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় সিবিআই ও ইডি মন্ত্রী মলয় ঘটককে বেশ কয়েকবার তলব করেছে। কিন্তু তিনি হাজির হননি। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেপ্তারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সিবিআইয়ের উচিত একইভাবে মন্ত্রী মলয় ঘটককে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা। তিনি অভিযোগ করেন যে মন্ত্রী মলয় ঘটক তার ভাই অভিজিৎ ঘটকের মাধ্যমে জেলায় অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বিজেপি সরকার গঠন করলে এই সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ করা এবং দোষীদের যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে।


