আইপ্যাক কান্ড মুখ্যমন্ত্রী নাটক করেছেন, কটাক্ষ অগ্নিমিত্রা পালের
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কলকাতা হাইকোর্টে গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ঘটে যাওয়া ঘটনার মামলা নিয়ে শুনানি হয়। একদিকে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি মামলা দায়ের করে। অন্যদিকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছিলো যে ৮ জানুয়ারী আইপ্যাকের অফিসে অভিযানের বাজেয়াফত করা সমস্ত নথিপত্র এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা হোক। তা কোথাও ব্যবহার না করা হোক।














তবে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট প্রথম দিন থেকেই বলে আসছে যে তারা অভিযানের সময় কিছুই বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি। কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকদের কাছে রাখা সমস্ত নথিপত্র এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা তারা বাজেয়াপ্ত করেছিলেন, তা নিয়ে চলে যান। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আইনজীবী এদিন হাইকোর্টে সওয়াল-জবাবে যুক্তি দিয়ে বলেন যে তারা কোন কিছুই সিজ করতে পারেনি। তাই, তা সংরক্ষণের প্রশ্ন নেই।
হাইকোর্টও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের যুক্তি সমর্থন করে তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলাটি খারিজ করে দেন। এই প্রসঙ্গে বুধবার দুপুরে আসানসোলে এভলিং লজে বিধায়ক কার্যালয়ে আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের সহ-সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এটাই তো হওয়ার কথা। মিথ্যার কোনও পা নেই। তাই তারা বেশিদূর যেতে পারে না। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট প্রথম দিন থেকেই বলে আসছিলো যে তারা কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি। মুখ্যমন্ত্রী যা বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্ধারিত ছিল তা নিয়ে গেছেন। এদিন কলকাতা হাইকোর্টও এটি নিশ্চিত করেছে। বিজেপি বিধায়ক আরো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী একজন শিল্পী।
তাই তিনি অভিনয় ও নাটক করতে পছন্দ করেন। ৮ জানুয়ারি তিনি অভিনয় করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট যেখানে অভিযান চালাচ্ছে সেখানে তার দলীয় কার্যালয়। কিন্তু আজ সত্য কি, তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, মাত্র আর তিন মাস। তার পরে, রাজ্যের জনগণ তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপযুক্ত জবাব দেবেন। জনগণও দেখছেন যে তৃণমূল কিভাবে আদালতে রাজ্যের করদাতাদের টাকা নষ্ট করছে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি বিধায়ক এসআইআর প্রক্রিয়াশ ফর্ম ৭ সম্পর্কেও দলের তরফে মতামত প্রকাশ করেন ও ক্ষোভ উগড়ে দেন। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ইআরওরা ফর্ম ৭ গ্রহণ করছে না বলে শোনা যাচ্ছে। তারা কার নির্দেশে এটি করছে তা স্পষ্ট নয়। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা চান না যে ভুয়ো ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক।
তাই তারা হয়তো ইআরওদের ফর্ম ৭ গ্রহণ করতে বাধা দিচ্ছেন। কিন্তু বিজেপি এটা হতে দেবে না। ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্য নন এমন ভোটারদের নাম অবশ্যই বাদ দিতে হবে। এর জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে প্রস্তুত রয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক বলেন , এদিন এই ইস্যুতে আসানসোল জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে আসানসোলের এসডিও অফিসের সামনে একটি অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু না করলে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

