আসানসোলের এসডিও অফিস রণক্ষেত্র, বিজেপিকে ফর্ম ৭ জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ বিক্ষোভ
.বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার রণক্ষেত্র হলো পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের মহকুমাশাসক বা এসডিও ( সদর) অফিস চত্বর। বিজেপিকে ফর্ম ৭ জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বিজেপির নেতা ও কর্মীদেরকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বিজেপির রাজ্য সহসভাপতি তথা আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্ব বিজেপির নেতা ও কর্মীরা প্রথমে এসডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পরে বার্ণপুর রোডে আসানসোল দক্ষিণ থানা পিপির সামনে রাস্তায় বসেন বিজেপি বিধায়ক। করা হয় রাস্তা অবরোধও। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য ও কৃষ্ণা প্রসাদ।














পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন বিজেপি বিধায়ক। সন্ধ্যে পর্যন্ত এই রাস্তা অবরোধ বিক্ষোভ চলে। গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, প্রথম দিন থেকেই তৃণমুল রাজ্যে এসআইআরের বিরোধিতা করে আসছে। এখন ফর্ম ৭ জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো ফর্ম ৭ জমা দিতে এসেছি। তা আমরা জমা দেবই। তিনি আরো বলেন, পুলিশ একেবারে দলদাসে পরিনত হয়েছে। এদিন অনেক ফর্ম ৭ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। যদিও, শাসক দলের তরফে বিজেপির দাবি ও অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। তারা পাল্টা কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে।
গোটা ঘটনার সূত্রপাত সোমবার দুপুরে। সেই সময় আসানসোল মহকুমাশাসকের দপ্তরের সামনে একটি গাড়ি করে প্রচুর ফর্ম-৭ নিয়ে আসেন বিজেপি কর্মীরা। তা তৃণমূল কর্মীদের নজরে আসতেই গন্ডগোল শুরু হয়। কি কারণে এতো ফর্ম-৭ নিয়ে আসা হয়েছে তা নিয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি বিজেপি কর্মীরা বলে দাবি করা হয়েছে। তখন বিজেপি কর্মীদের দিকে তেড়ে যান তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। শুরু হয়ে যায় ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি। এরপরে তৃণমূল কর্মীরা ফর্ম ৭ ছিনিয়ে নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেন বলে অভিযোগ। যে গাড়িতে ফর্ম নিয়ে আসা হয়েছে, সেই গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে আসে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। বেশি কিছুক্ষনের চেষ্টায় দুপক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। কালো রংয়ের একটি চারচাকা গাড়ি পুলিশ সেখান থেকে আটক করে নিয়ে যায়। বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, অবৈধ বা মৃত বা অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য এদিন ফর্ম ৭ আনা হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। ফর্ম ৭ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। পুলিশ সেখানে থাকা সত্বেও কোন কিছু করেনি।তৃণমূল নেতা আসানসোল পুরনিগমের কাউন্সিলর অশোক রুদ্র পাল্টা বলেন, ‘যদি সত্যি কারও নাম বাদ যায়, তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বিজেপি চক্রান্ত করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম-৭ নিয়ে এসেছে। আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রে যা শুনলাম ২৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম নিয়ে আসা হয়েছিল। আমরা তাতে বাধা দিয়েছি।এদিকে, জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানায়, এসডিও অফিস চত্বর থেকে একটি গাড়িকে আটক করা হয়েছে।







