তিন মেয়ের মা পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীর করল হত্যা ! গ্রেপ্তার ২
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : দিনমজুর স্বামীর প্রতি বিরক্ত হয়ে পরকীয়া প্রেমে যুক্ত থাকা প্রেমিকার সাথে মিলে দিনমজুর স্বামীকে পথের কাঁটা হিসেবেই দেখে, স্বামীকেই পরিকল্পিতভাবে নিজের জীবন থেকে সরিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটলো আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের জামুড়িয়া থানার পরিহারপুর এলাকায়। যদিও এই ঘটনার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই পরিবারের অভিযোগের সূত্র ধরেই ওই মহিলা ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করলো জামুড়িয়া থানার পুলিশ। ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায় জামুড়িয়ার পরিহারপুরের বাসিন্দা বছর 53র সঞ্জিত বাউরীর বিয়ে হয় বছর 19 আগেই বাঁকুড়া জেলার মৌসুমী বাউরীর। তিন মেয়ের মা মৌসুমী দিনমজুর স্বামীর অভাব অনটনের সংসার কে সহ্য করতে না পেরে পরক্রিয়া প্রেমে লিপ্ত হয় ওই এলাকারই অন্য পাড়ার বাসিন্দা অবিরাম বাউরী ওরফে গজলার সঙ্গে।














ইদানিং তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক তার স্বামী জেনে ফেলায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তাদের মধ্যে, সেই বিষয়কেই কাটিয়ে ওঠার জন্য পথের কাঁটা থাকা সঞ্জিত বাউরী কে চিরতরের সরিয়ে ফেলতে মৌসুমী তার প্রেমিকের সাহায্য নিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেয়। জানা যায় সোমবার রাতে এলাকারই এক পরিত্যক্ত বন্ধ খনি মুখের কাছে সঞ্জিত বাউরী কে সরিয়ে ফেলতে তাকে ভারী কোন বস্তু দিয়ে আঘাত করে তার দেহ লোপাট করার জন্য সেই ঝোপ জঙ্গলে ভরা খনিতে ফেলে দেওয়া হয় তাকে। মঙ্গলবার সঞ্জিতের পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ তল্লাশি শুরু করতেই তার পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি নরেশ বাউরী তার সাইকেল দেখতে পায়, পরে তার বাড়ির লোকেরা সেখানে খোঁজ করতেই তার শীতের টুপি ও পায়ের চটি লক্ষ্য করে, এরপরই সংলগ্ন অংশে ওই পরিতক্ত খনির জঙ্গলে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পায় তারা।
এ বিষয়ে জামুড়িয়া থানার শ্রীপুর ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হলে শ্রীপুর ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই দেহ উদ্ধার করে। পরে তার পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় যে এই ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যার ঘটনা আর তারপরেই তাদের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় তার স্ত্রী মৌসুমীর ওপর যে সময় এই ঘটনা সকলেই লক্ষ্য করে সে সময়ই এই ঘটনায় যুক্ত থাকা মূল অভিযুক্ত অভিরাম বাউরির ফোন ক্রমাগতই আস্তে থাকে মৌসুমীর ফোনে, আর সেই ফোন পরিবারের অন্য সকল সদস্যরা লক্ষ্য করে মৌসুমিকে তা স্পিকার অন করে তুলতে বলাতেই এই চক্রান্তের বিষয়টি সামনে আসে এরপরই তাদের পরিবারের সদস্যরা সেই ব্যক্তির নাম্বার পুলিশ প্রশাসনকে দিলেই পুলিশ সেই মোবাইলের সূত্র ধরে ওই অভিযুক্তর ফোন নাম্বার ট্রাক করে মঙ্গলবার রাতেই এক ইটভাটা থেকে অভিরামকে গ্রেফতার করে। বুধবার জামুরিয়া থানার শ্রীপুর ফাঁড়িতে এই সকল বিষয় নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস, এসিপি সেন্ট্রাল টু বিমান মৃধা, রানীগঞ্জ সার্কেল ইন্সপেক্টর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় জামুড়িয়া থানার ওসি সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীপুর ফাঁড়ির আইসি মেহেরাজ আনসারীকে সঙ্গে নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করে এই সমস্ত বিষয় তারা তুলে ধরেন।
ডিসিপি জানিয়েছেন দুই অভিযুক্তই নিজেদের বয়ানে তাদের অভিযোগের কথা স্বীকার করেছে, তিনি তার বক্তব্যে দাবি করেন মৌসুমী ও তার এক বিশেষ বন্ধু তাদের পথের কাঁটা সরাতেই সঞ্জিতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলেই তাদের প্রাথমিক অনুমান আগামীতে এই সকল বিষয়গুলিকে বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান করে খতিয়ে দেখে দোষীরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায় সে লক্ষ্যেই চলছে তদন্ত। পুলিশের হাতে বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যেই এসেছে সে সকল বিষয় গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে আগামীতে দেখার কিভাবে কি কারণে এই ঘটনা তারা ঘটিয়েছে সেগুলি নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি থাকবে।







