বিপজ্জনক ভাবে দাঁড়িয়ে বার্নপুরে পিএইচইর ওয়াটার প্রজেক্টের পিলার, ৬ মাস আগে ঘটা ঘটনাতেও হুঁশ নেই
বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ
পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বার্নপুরের কালাঝড়িয়ায় দামোদর নদীর মধ্যে ১০ এমজিডি কালেক্টর অয়েল, একটি ব্রীজ এবং তার সঙ্গে দুইটি ৭০০ এমএম ডিজিএ সিআই পাইপ লাইন সহ পিএইচই বা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের একটি ওয়াটার প্রজেক্ট আছে। এর মাধ্যমে দামোদর নদীর জল ক্লিন ওয়াটার রিজার্ভারে ( সিডব্লুআর) জল ভরা হয়। এরপর সেই জল পাম্পের মাধ্যমে ৭০০ এমএম, ৪৫০ এমএম ও ২৫০ এমএমের তিনটি পাইপ লাইন দিয়ে রানিগঞ্জের সিয়ারশোল বুস্টিং স্টেশন পর্যন্ত গেছে। তার মধ্যে ৪৫০ এমএমের লাইন থেকে চাঁদা মোড় হয়ে জামুড়িয়া, চিচুঁরিয়া এবং বেনালি জল সরবরাহ হয়। ২৫০ এমএমের লাইন থেকে মহিশীলা অবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় জল সরবরাহ হয়। এর পাশাপাশি ৭০০ এমএমের লাইন থেকে জল সিয়ারশোল সিডব্লআরে যেমন যায় ও তেমন সেখান থেকে আরসিএফএ ওয়াটার সাপ্লাই স্কিমের পার্ট ২ এলাকার সমস্ত জায়গায় জল সরবরাহ হয়।














কালাঝড়িয়ায় এই ওয়াটার প্রজেক্টের ১৯৭২ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিলো। পরে একবার ঝড়ে একবার পড়ে যায়। তারপরে বিবিজে কোম্পানি আসে ও তারা দামোদর নদীর উপরে স্ট্রাকচারাল ব্রিজ নির্মাণ করে। কিন্তু পরে বাদ সাধে দামোদর নদী থেকে বালিতোলা। অসাধু ব্যবস্যায়ীরা মুনাফা লাভের সেই ব্রিজের জন্য তৈরি পিলারের ধারের সমস্ত বালি তুলে ফেলে। এর ফলে পিলারগুলি মাটির ওপর থেকে একফুট উপরে ঝুলছে । এর মধ্যে গত বছরের জুলাই মাসে একটি পিলার ভেঙে পড়ে। যে কারণে পিলারের উপরে থাকা ব্রীজ এবং তার মধ্যেকার পাইপলাইন ভেঙে পড়েছে দামোদর নদীতে। তারপর থেকে ঐ প্রজেক্ট থেকে পানীয়জল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এই ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যম পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি গোটা দেশ জুড়ে প্রচার করে। মজার ব্যাপার হলো ঘটনার পরে ৬ মাস হতে চললেও সেই ব্রিজ ও পাইপলাইন এখনো ভাঙ্গা অবস্থাতেই দামোদর নদীতে পড়ে রয়েছে।
সব থেকে চিন্তার বিষয় হলো একফুট করে যে
পিলারগুলো উঠে আছে, তাতে করে সেগুলো আবার পড়ে গেলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। কারণ, পিলারের ঐ সমস্ত জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্নান করতে আসেন। গোটা বিষয়টি পিএইচইর সমস্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে ইঞ্জিনিয়ার জেনেও চুপ করে আছেন। অভিযোগ, তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোন দাম নেই। অতি সত্বর বা এইগুলোকে মেরামত বা সরিয়ে না দিলে ঐ এলাকায় যাওয়া মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। পিএইচইর একটা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঐ প্রজে থেকে টিউবওয়েলের মাধ্যমে জল সরবরাহ করলে ভাল হয়। এইসবের ফলে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে যেসব জায়গায় জল সরবরাহ করা হয়, বর্তমানে সেখানে ট্যাঙ্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। কিত দুবছর যাবৎ ঠিকাদারদের কোন পেমেন্ট বা টাকা না পাওয়ায় তারা আর ট্যাঙ্কার চালাতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এরফলে ঐ সমস্ত এলাকার মানুষের মধ্যে জলের হাহাকার পড়তে পারে ।
প্রসঙ্গতঃ, ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই দুপুরে
পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের আসানসোলের বার্নপুরের কালাঝাড়িয়ায় দামোদর নদীর উপরে ভেঙে পড়ছিলো পানীয়জল সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার লোহার সেতু বা স্ট্রাকচারাল ব্রিজ। দামোদর নদীতে ঠিক মাঝখান থেকে এই ব্রিজ ভেঙে পড়ে। এই পাইপলাইন রাজ্যের পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং বা জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের (পিএইচই) প্রধান বা মেন রাইজিং। এই ঘটনার কারণ স্পষ্ট না হলেও, মনে করা হয়েছে, দামোদর নদী থেকে বেআইনি ভাবে বা অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বালি তোলার জন্য এই বিপর্যয় ঘটে।
তবে, গোটা বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন বা পিএইচইর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।







