আসানসোলে পুরনিগমের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ, নেতাজী জন্মদিনে আজাদ হিন্দ বাহিনীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জাপন
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসুর ১২৯ তম জন্মজয়ন্তীতে শুক্রবার সকালে আসানসোলে রবীন্দ্র ভবন চত্বরে আজাদ হিন্দ বাহিনীর শহীদদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জাপন করলেন বিজেপি নেতা আসানসোল পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তার সঙ্গে ছিলেন আসানসোল পুরনিগমের কাউন্সিলর গৌরব গুপ্তা, বুম্বা মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা। তবে, আসানসোল পুরনিগমের বিরুদ্ধে এদিন আজাদ হিন্দ বাহিনীর শহীদদের স্মৃতি সৌধে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।














এই প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস আমি তখন আসানসোল পুরনিগমের মেয়র। আসানসোলের কিছু নেতাজি অনুরাগী মানুষজন আমাকে অনুরোধ করেছিলেন পুরনিগমকে কিছুটা জমি দেওয়ার জন্য। কারণ তারা একটি আজাদ হিন্দ বাহিনীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করতপ চান। বিষয়টির কথা আমি জানতে পেরে নিজেই উদ্যোগী হই। পুরনিগমের অর্থ্যানুকুল্যে আসানসোল রবীন্দ্রভবনের মতো জায়গায় আজাদ হিন্দ বাহিনীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করেছিলাম। মাত্র উনিশ দিনের মাথায় এই স্মৃতিসৌধটি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, এই স্মৃতিসৌধের ইতিহাস শিহরণ জাগানোর মতো। এই স্মৃতিসৌধটি একদা সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ বাহিনীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা সেটিকে ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। আমি গর্বিত একমাত্র আসানসোলেই সরকারি উদ্যোগে সেই স্মৃতিসৌধের রেপ্লিকা আমি আসানসোল পুরনিগমের পক্ষ থেকে গড়তে পেরেছিলাম। শুধু তাই নয় এই স্মৃতিসৌধের পাশে রয়েছে নেতাজির নেতৃত্বে ভারতের যে প্রথম অস্থায়ী স্বাধীন সরকার গঠন হয়েছিল, সেই মন্ত্রীসভার সমস্ত মন্ত্রীদের নাম খোদিত রয়েছে। আছে আজাদ হিন্দ বাহিনীর লোগো।
তিনি বলেন, আমার জীবনে এটা সবচেয়ে বড় তৃপ্তি থেকে যে আমি নেতাজিকে এইভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছিলাম। ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি আজকের দিনেই আজাদ হিন্দ বাহিনীর সৈনিক প্রয়াত কর্নেল অমর বাহাদুর সিং এই স্মৃতিসৌধের উন্মোচন করেছিলেন।
কিন্তু এদিন আমি খবর পাই আসানসোল পুরনিগম বিন্দুমাত্র উদ্যোগী হয়নি এই স্মৃতিসৌধকে শ্রদ্ধা জানাতে। খবর পাওয়ার পরেই সঙ্গে সঙ্গে আমরা কয়েকজন মিলে সেখানে যাই। নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানাই। তার সঙ্গে সঙ্গে আজাদ হিন্দের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। প্রাক্তন মেয়র খানিকটা সমালোচনার সুরে বলেন, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। কিন্তু আমরা শেকড়কে ভুলে যাব কি করে? নেতাজিকে ভুলে যাব কি করে? তাই আসানসোল পুরনিগমের দায়িত্বে থাকা বোর্ড ও আধিকারিকদের কাছে অনুরোধ আপনারা উন্নয়নের পাঁচালী প্রচার করুন। কিন্তু ইতিহাস কে ভুলে যাবেন না। এদিন সামান্য শ্রদ্ধাটুকু না জানিয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকেই আপনারা অশ্রদ্ধা করলেন। যার নিন্দার কোন ভাষা নেই।







