আসানসোলে সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট, কাজে না ফিরলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারী, বাড়ানো হবে না বেতনঃ মেয়র
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে আসানসোল পুরনিগমের সাফাই কর্মীরা টানা আট দিন ধরে ধর্মঘট পালন করছেন। এর ফলে আসানসোল পুরনিগম এলাকার সাফাই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বিরোধী দলগুলি এই বিষয়ে আসানসোল পুরনিগম কতৃপক্ষকে আক্রমণ করে আন্দোলনে নেমেছে। তবে, এতো কিছুর পরেও সাফাই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করতে নারাজ আসানসোল পুরনিগম কতৃপক্ষ। তবে সাফাই কর্মীদের অন্য সব দাবি নিয়ে পুর কতৃপক্ষ নরম মনোভাব পোষণ করেছে। বলা হয়েছে, অবিলম্বে কাজে না ফিরলে সাফাই কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।















জানা গেছে, এদিন আসানসোলে গোটা বিষয়টি নিয়ে একটি বৈঠক করেন মেয়র বিধান উপাধ্যায়। সেই বৈঠকে পুর চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়, বোরো চেয়ারম্যান সহ পুর আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে গোটা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরে মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, সাফাই কর্মীরা ধর্মঘট করছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। গত বছর সাফাই কর্মীদের সাথে বেতন সহ একাধিক বিষয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের পরে, পুর কাউন্সিলরদের বোর্ড বৈঠক হয়। যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সাফাই কর্মীদের প্রতিদিন ৩৫৭ টাকা বেতন দেওয়া হবে। ৫০ টাকা ভবিষ্য নিধি বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা দেওয়া হবে। সুতরাং, একজন সাফাই কর্মী প্রতিদিন ৪০৭ টাকা পান। যা বাংলার অন্য কোন পুরনিগম দেয় না।
সেই সময়, স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে আগামী দুই বছর বেতন বৃদ্ধি নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। আসানসোল পুরনিগমের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আলোচনা হবে না। তবে, দুর্ভাগ্যজনক যে তারপরেও সাফাই কর্মীরা এখনও ধর্মঘট করছেন। বিধান উপাধ্যায় বলেন, পুরনিগমের সাফাই কর্মীদের অন্যান্য দাবি, যেমন ভবিষ্য নিধি বা প্রভিডেন্ট ফান্ড , ইএসআই বিষয় সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধাও শুরু করা হয়েছে। তবে মেয়র বিধান উপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাফাই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। আমি কাউকে অন্ধকারে রাখতে চাই না। যা সম্ভব নয় সে বিষয়ে আমি কোন আশ্বাস দিতে চাই না।
এর পাশাপাশি তিনি বলেন, আসানসোল পুরনিগম এলাকায় আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা হচ্ছে। মেয়র বলেন, পুর কতৃপক্ষ কাউকে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে চায় না। তবে সাধারণ মানুষকে বাঁচানোটাও আসানসোল পুরনিগমের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই এই নিয়ে যা করার তা, পুর কতৃপক্ষ করবে।অন্যদিকে, আরো জানা গেছে, পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন গোটা বিষয়টির দিকে নজর রেখেছে। শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলমের নির্দেশে আসানসোলের মহকুমাশাসক (সদর) বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য পুর চেয়ারম্যান সহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিন হওয়া মেয়রের বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ জেলা প্রশাসনের তরফে নেওয়া হবে বলে এক আধিকারিক জানিয়েছেন।

