RANIGANJ-JAMURIA

রাণীগঞ্জ থানার পুলিশের জালে তিন দুষ্কৃতী, উদ্ধার বিভিন্ন সামগ্রী

বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : দুই অদ্ভুত ধরনের সাবলের খোচায় ভেঙ্গে ফেলা হতো মজবুত থেকে মজবুত তালা, থেকে শুরু করে লোহা ও কাঠের দরজা জানালা আর তার পরে চলতো লুটপাট। এবার এমনই একটি চোরের দলের হদিস পেয়ে তাদের কাছ থেকে মূল্যবান সোনা রুপোর গহনা, নগদ অর্থ ও চুরির কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করল রানীগঞ্জ থানার পিসি পার্টির পুলিশ। দীর্ঘ খোঁজ তল্লাশির পর অন্ডালের রেল স্টেশনের মাল গাড়িতে লুকিয়ে থাকা চোরেদের বাঁকুড়া থেকে পাকড়াও করতে সফল হল পুলিশ।

জানা গেছে বাঁকুড়ার কুখ্যাত এলাকার এই দাগি দুষ্কৃতীরা এবার ধরা পড়ল রাণীগঞ্জ থানার পুলিশের জালে। ধৃত তিন দুষ্কৃতী বাঁকুড়া জেলার কেঠার ডাঙ্গা অঞ্চলের আশ্রম পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায় বাড়ির সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে রানীগঞ্জের গির্জা পাড়া এলাকায় দুটি ঘরে চুরির ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ৬ই জানুয়ারি নাগাদ। এই ঘটনার খবর পুলিশের কাছে পৌঁছানোর পরই পুলিশ নড়েচড়ে বসে। রানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর বিকাশ দত্তর নেতৃত্বে পি সি পার্টির পুলিশ প্রীতম পাল ও পরভেজ আলম এই ঘটনার বিভিন্ন নথি লক্ষ্য করতে থাকে। যদিও বিস্তর খোঁজ তল্লাশির পর কয়েকটি আবছা ছবি হাতে আসে তাদের। তবে এরপর তারা হাল কিন্তু ছেড়ে দেয়নি, বিষয়টাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলে নানান খোঁজ তল্লাশি।

জানা যায় মঙ্গলবার রাতে ওই চোরের দল আবার রানীগঞ্জ এলাকায় চুরির উদ্দেশ্যে ঘোরাফেরা করছিল, সে সময়ই সিসিটিভির ফুটেজ লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়ে যায় পুলিশ। এরপরই ওই দুষ্কৃতি দলকে ধাওয়া করলে, তারা অন্ডাল অভিমুখে পালিয়ে যায়, পুলিশ তারপরও তাদের খোঁজ চালাতে থাকে রাতভর। টাওয়ার লোকেশন ধরে মোবাইল টাওয়ার লক্ষ্য করে চলে খোঁজ তল্লাশি। এরপর জানতে পারা যায় অন্ডালের একটি মাল গাড়ির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তারা, সেখানেও হানা দেয় পুলিশ। তবে তার মধ্যেই সেখান ছেড়ে পালিয়ে যায় এই দুষ্কৃতি দল। শেষমেষ তাদের বাঁকুড়ার কুখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত কেঠার ডাঙ্গা এলাকার আশ্রমপাড়া থেকে পাকড়াও করে পুলিশ। এরপর চলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করে তল্লাশি চালানোর কাজ। সে সাময়িক বেশ কিছু তথ্য ও সামগ্রী পুলিশের কাছে উঠে আসে, এরপরই বুধবার বছর পঞ্চাশের ধৃত তিন দুষ্কৃতি শামীম মন্ডল, তাজ মহম্মদ ও রফিক খান কে আসানসোল জেলা আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে বিচারক ধৃতদের আগামীতে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিলে পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। আর তারপরেই উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রী যার মধ্যে রয়েছে প্রায় 500 গ্রামের মতো রুপো ও 50 গ্রামের মতো সোনার গহনা আর সে সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা।

এই সকল সামগ্রী গুলি রানীগঞ্জের গির্জা পাড়ার চাঁদমারি ডাঙ্গার মলয় কর্মকার ও হলুদ ফ্যাক্টরি এলাকার বিনোদ কুমার ঝায়ের বাড়ি থেকে চুরি করা হয়েছে বলেই জানতে পারে পুলিশ। আর সে সকলের সাথেই পুলিশ উদ্ধার করে চুরির জন্য ব্যবহার করা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। তার মধ্যে ট্যান্সার পাতি , প্লাস , হাতুড়ি সাঁড়াশি যেমন রয়েছে সে সঙ্গেই লক্ষ্য করা যায় অদ্ভুত ধরনের দুটি বেঁকানো শাবল। পুলিশ প্রশাসনের দাবি এই বেঁকানো শাবল দিয়েই চোরের দল অনায়েসে একের পর এক খালি থাকা বাড়িতে নজরদারি চালিয়ে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, যা এখানেও তারা লাগাতার করে বলেই মনে করছে পুলিশ। তবে বাঁকুড়া থেকে এত দূরে এই চোরের দল চুরির ঘটনা ঘটি এই যে চলেছে তা দেখেই আশ্চর্য হচ্ছে পুলিশ। রানীগঞ্জ থানা থেকে সদ্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া বিকাশ দত্ত দাবি করেছেন সবটাই তাদের টিমের তৎপরতা ও টিম ওয়ার্ক এর কাজের জন্যই সফল হয়েছে।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *