পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের নাম নেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ” অ্যাড জুডিকেশনে” পরিবারের আরো ৫ জন
বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের অন্যতম নির্বাচিত কর্মাধ্যক্ষ। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আসানসোলের সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বে তারও আগে প্রায় তিন দশক ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ রাজ্যের শাসক দলের নেতা মহঃ আরমানের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ঠাঁই পেল না। মহঃ আরমানের নাম গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ” অ্যাড জুডিকেশন ” বা ” বিবেচনাধীন” হিসেবে রয়েছে।মহঃ আরমান গোটা বিষয়টিকে ” পাগলামি” ছাড়া আর কোন কিছু বলতে পারছেন না।














তিনি বলেন, এসআইআরের সবকিছুই ভুল ভাবে চলছে। শুধু মহঃ আরমানই নন, তার স্ত্রী, বোন, ভগ্নিপতি, কাকার ছেলে, তার স্ত্রী সহ ৬ জনকে এসআইআর পর্বে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেই শুনানিতে মাধ্যমিকের এ্যাডমিট কার্ড, সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য সমস্ত নথিপত্রই তারা জমা দিয়েছিলেন। তারপরও আশ্চর্য কারণে তাদের নাম আন্ডার ” অ্যাড জুডিকেশন” হয়েছে। অর্থাৎ তাদের জমা দেওয়া নথিপত্র এবার বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসাররা খতিয়ে দেখে যথাযথ মনে করলে পরবর্তী ভোটার তালিকায় তাদের নাম স্থান পেতে পারে।
এই বিষয়টিকেই অত্যন্ত অনায্য এবং অবমাননাকর বলে মনে করছেন মহঃ আরমান। তিনি বলেন, তাদের পরিবারের ছয়জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ক্লিনচিট না পেলেও আমার ছেলেমেয়ে এই তালিকায় যথাযথভাবে স্থান পেয়েছে। বাবা-মাকে সন্দেহের তালিকায় ফেলা হলো। অথচ তাদেরই ছেলেমেয়েদের নাম উঠে গেল চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। একে পাগলামি ছাড়া আর কি ই বা বলা যায়! বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের সালানপুর ব্লকে ৭১ নম্বর বুথের ভোটার মহঃ আরমান ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এই বুথে এসআইআরের আগে মোট ভোটার ছিলেন ৪৫০ জন। এরপর এসআইআর পরবর্তী সময়ে ৩৭০ জনের নাম তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু এই ৩৭০ জনের মধ্যে আবার ২৩ জনের নাম আন্ডার অ্যাড জুডিকেশন দেখানো হয়েছে। ফলে সালানপুরের এই একটি বুথেই (৮০+২৩) ১০৩ জনের নাম হয় বাদ গেলো বা গোটা প্রক্রিয়া শেষে ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঝুলে রইলো । এইভাবে প্রতিটি বুথেই যথাযথ কারণ ছাড়াই বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলছেন সালানপুর ব্লকের সাধারণ মানুষেরা।

