রামনবমীর আগে পুরুলিয়ায় মূর্তি ভাঙচুর, গ্রেফতার ৪, তীব্র রাজনৈতিক তরজা
বেঙ্গল মিরর, লাল বাহাদুর মাহাতো, পুরুলিয়া: রামনবমীর আগে পুরুলিয়া জেলায় একাধিক মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল বিভিন্ন এলাকায়। বজরংবলীর দুটি মূর্তি ভাঙা এবং বাসন্তী মায়ের মূর্তিকে বিকৃত করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের দুই দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কোটশিলা থানার অন্তর্গত মুরগুমা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এবং জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী।














এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।তৃণমূলের অভিযোগ, রামনবমীর আগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিজেপি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি গৌরব সিং জানান, বেগুনকোদর, মুরগুমা ও জয়পুর এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে তারা এই ঘটনার খবর পান। তাঁর দাবি, বজরংবলীর মূর্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি একটি দুর্গা মূর্তিতে পোড়া তেল ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। গ্রেফতার চারজনেরই বিজেপির সঙ্গে যোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, এলাকাবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের জেলা মিডিয়া সেল সভাপতি জয়দীপ চট্টরাজ বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক স্বার্থে তৃণমূল বিজেপি কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি আরও দাবি করেন, জঙ্গলমহল এলাকায়, বিশেষ করে কুর্মি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিজেপির সমর্থন বাড়ছে, আর সেই কারণেই দলকে কালিমালিপ্ত করতে এ ধরনের ঘটনা সামনে আনা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে বলেও তিনি জানান।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানান, জেলার তিনটি আলাদা জায়গায় ভাঙচুরের খবর পাওয়া গিয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রাম পুলিশ এক অভিযুক্ত গাড্ডু মাহাতোকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। জিজ্ঞাসাবাদে সে বাকি ঘটনাগুলির সঙ্গেও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে দাবি পুলিশের। তার বয়ান ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সাধারণ মানুষকে সংযত থাকার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। যদিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে।।

