মেডি লিংকের উদ্যোগে ক্যান্সার সচেতনতা আলোচনা চক্রের উদ্বোধন করলেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক
বেঙ্গল মিরর। আসানসোল। ধানবাদ থেকে রানীগঞ্জ কয়লা খনি অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজ্যজুড়ে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে । শুধু তাই নয় এমনকি মৃত্যু কেড়ে নিচ্ছে বহু মানুষকে। রূপনারায়নপুরের মেডিলিংক-২০০৭ নামে একটি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংগঠনের কর্ণধার কেয়া সরকারের উদ্যোগে গত ২২শে মার্চ উৎসব হলে ক্যান্সার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং তা প্রতিরোধের ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এই আলোচনা সভার সূত্রপাত করেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী সোমাত্মানন্দ মহারাজ।














তিনি বলেন এই সভায় এত সংগঠন এত মানুষ এবং এত চিকিৎসক দেখে আমার মনে হচ্ছে এই ধরনের আলোচনা বর্তমান সময় অত্যন্ত জরুরি এবং তা শুধু রূপনারায়নপুর -চিত্তরঞ্জন এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পাঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চলে আরো ছড়িয়ে দেওয়ার দরকার। তিনি বলেন শ্রীরামকৃষ্ণ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ।গত ২০ শে মার্চ বৃন্দাবনে রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল চালু হয়েছে।
তিনি বলেন আক্রান্তরা ভয় পাবেন না। সময়মতো চিকিৎসা হলে বেশিরভাগ মানুষ ভালো হয়ে যান। এদিনের সভায় জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের প্রধান চিকিৎসক সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় রক্তে এই রোগের প্রভাব কিভাবে পড়ে এবং আসানসোল জেলা হাসপাতালে কিভাবে ক্যান্সার ইউনিট রাজ্যের অন্যতম সেরা ইউনিট হিসেবে আক্রান্ত রোগীদের স্বার্থে কাজ করছে তার উল্লেখ করেন। ইএসআই হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অতনু ভদ্র বলেন শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা বাড়লেও প্রথম দিকেই যখন আমরা বুঝতে পারছি এবং চিকিৎসা শুরু করা হচ্ছে আমরা কিন্তু তাদের বাঁচাতে পারছি ।এক্ষেত্রে অভিভাবকরা কিভাবে সচেতন হবেন তারও তিনি ব্যাখ্যা দেন।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জয়শঙ্কর সাহা ও চিত্তরঞ্জন রেল হাসপাতালের চিকিৎসক টুলু চক্রবর্তী মহিলাদের এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা আরো বাড়ানোর কথা বলেন। চিত্তরঞ্জন রেল হাসপাতালের প্রবীণ চিকিৎসক ও বাচিক শিল্পী অশোক চক্রবর্তী বলেন শুধুমাত্র বড় হাসপাতালের কথা ভেবে সেখানে যাবেন এটা না ভেবে প্রথমেই স্থানীয় যে ভালো চিকিৎসক পাচ্ছেন তারপরামর্শ নিন এবং সময় যে চিকিৎসা করলে ভালো হওয়া যায় তার তিনি উদাহরণ দেন। কলকাতার বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক স্তরের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ঈশিতা সান্যাল বলেন এই রোগের সাথে মানসিক বিপর্যয়ের একটা সংযোগ তৈরি হয়। কিভাবে এটা কাটানো যায় তার তিনি ব্যাখ্যা দেন। খুনি অঞ্চলে ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব কিভাবে বাড়ছে এবং থাক কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় বিশেষ করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ক্যান্সার বিভাগের সাম্প্রতিক কাজকর্মের উদাহরণ তুলে ধরেন সাংবাদিক ও সমাজ কর্মী বিশ্বদেব ভট্টাচার্য। হোমিওপ্যাথিতে কিভাবে এই রোগীরা উপকৃত হন তার জন্য আসানসোলেরবিশিষ্ট হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক নবারুণ গুহ ঠাকুরতা জানান।
চিত্তরঞ্জন রেল হাসপাতাল থেকে সদ্য অবসর নেওয়া চিকিৎসক অসীম নস্কর এই ধরনের রোগীকে কিভাবে সাহিত্য এবং সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা যায় তা তিনি তার কবিতার মধ্যে দিয়ে উল্লেখ করেন। এসব প্রেমিক সম্পাদিকা শকুন্তলা মন্ডল অবসরপ্রাপ্ত উদ্যোক্ষা মৈত্রী মজুমদার সহ বেশ কয়েকজন তাদের মতামত ব্যক্ত করেন এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ।উল্লেখযোগ্য এই অনুষ্ঠানটির যিনি সঞ্চালনা করেন সুব্রত দাস তিনি নিজেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার এবং অস্ত্র প্রচারের পর এখন সুস্থ আছেন বলে বারবার জানান। এই সভায় আরো অনেকেই বক্তব্য রাখেন। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই ধরনের সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায়ও ভবিষ্যতে করার প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজক এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী কেয়া সরকার। এই অনুষ্ঠানে বেশকিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মানও জানানো হয়। এদিন একই সঙ্গে বিনামূল্যে একটি ফ্রি মেডিকেল চেকআপ ক্যাম্পে প্রায় ২০০জনের চিকিৎসা করা হয়।এদিন পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একমাত্র স্বাস্থ্য ম্যাগাজিন” স্বাস্থ্যাবিষ্কার” এর তৃতীয় সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। এর উদ্বোধন করেন রামকৃষ্ণ মিশনের আসানসোল শাখার সম্পাদক স্বামী সোমাত্মানন্দ মহারাজ। এই পত্রিকার এবারের বিষয় ক্যান্সার জয় -বিজ্ঞান সচেতনতা ও মানবিকতার সমন্বয়। লেখকদের তালিকায় চিকিৎসক পদ্মশ্রী অরুণোদয় মন্ডল ,জেলা হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের চিকিৎসক অমিত মুখার্জি ,ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও নিউরো সার্জেন চিকিৎসক সোহাগ বোস, চিকিৎসক অমরেশ মাঝি এনসার বিশেষজ্ঞ এ কে মিত্র। কয়লা খনি এলাকার ক্যান্সার সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক একটি লেখা ছড়াও ক্যান্সার বিষয় ১৮টি এর নানান দিক নিয়ে লেখা এই পত্রিকার অবশ্যই গুরুত্ব বাড়াবে পাঠকের কাছে।

