দুর্গাপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , শনিবার রানিগঞ্জ বিধানসভার খান্দ্রাতে জনসভা
বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ কলকাতা থেকে সড়কপথে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দুর্গাপুরে এলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিটি সেন্টারে একটি হোটেলে তৃণমূল নেত্রী শুক্রবার রাত্রিবাস করবেন। শনিবার সকাল এগারোটা নাগাদ দুর্গাপুর থেকে তিনি রানিগঞ্জ বিধানসভার অন্ডালে খান্দ্রা ফুটবল ময়দানে আসবেন। সেখানে রানিগঞ্জের প্রার্থী কালোবরণ মন্ডলের সমর্থনে এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। অন্ডালের জনসভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়া যাবেন। সেখানেও তার নির্বাচনের প্রচারে জনসভা করবেন।














দুর্গাপুরে সিটি সেন্টারের হোটেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকার কারণে ঐ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এদিন বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন গাড়ি করে ঢুকছিলেন, তখন সেই হোটেল সংলগ্ন রাস্তায় দুপাশে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ভিড় করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় বাঁশের ব্যারিকেড করা হয়েছিলো। গাড়ি চলাচলে ছিলো নিয়ন্ত্রণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা স্লোগান দেন। তা শুনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। এরপরে তার গাড়ি হোটেলের মধ্যে ঢুকে যায়।
গত বুধবার পশ্চিম বর্ধমানের পান্ডবেশ্বরে জনসভার মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণবঙ্গে তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। সেই হিসেবে শনিবার তিনি পশ্চিম বর্ধমানে দ্বিতীয় জনসভা করতে চলেছেন।
প্রসঙ্গতঃ, এবারের নির্বাচনে শাসক দল পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয়টি আসন জিততে কোমর বেঁধে নেমেছে। বিশেষ করে, জেলার কয়লাখনি এলাকা পান্ডবেশ্বর, রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়ার মতো গতবারের জেতা কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে জোর দিয়েছেন। তাই তিনি, প্রচারের একেবারে শুরুতেই এই জেলাকে বেছে নিয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে দুর্গাপুরে আসার কথা ছিলো। কিন্তু গত বুধবার প্রথমে পান্ডবেশ্বরে ও পরে বীরভূমে জনসভা করে অন্ডালের কাজি নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর থেকে বেসরকারি চাটার্ড বিমানে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। কিন্তু সন্ধ্যের মুখে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার সময় ঘটে বিপত্তি। সেই সময় কলকাতা বিমানবন্দর এলাকায় শুরু হয় তুমুল ঝড়বৃষ্টি। যে কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে পারেনি। আকাশে একঘন্টারও বেশি সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চক্কর কাটে। ঝড়বৃষ্টি থামলে দেড় ঘন্টা পরে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান অবতরণ করে কলকাতা বিমানবন্দরে। এদিন বিকেলের দিকে কলকাতায় ঝড়বৃষ্টির হওয়ার সম্ভবনা ছিলো। তাই কোনরকম ঝুঁকি না নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা থেকে সড়কপথে দুর্গাপুরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

