সশস্ত্র দুষ্কৃতি নিরাপত্তা রক্ষীদের বেঁধে রেখে মারধর করে চালাল লুটপাট
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, জামুড়িয়া : জামুরিয়া থানার কেন্দা ফাঁড়ি এলাকায় একের পর এক ইলেকট্রিকের অতি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফর্মার লুটের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হল কুনুস্তোরিয়া কোলিয়ারি চত্বরে। ঘটনা প্রসঙ্গে জানা প্রায় কুড়ি ২২ জনের সশস্ত্র দুষ্কৃতি নিরাপত্তা রক্ষীদের প্রথমে মারধোর করে বেঁধে রেখে চালায় লুটপাট। এই ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতেই। জামুড়িয়ার কেন্দা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় এই ট্রান্সফরমার লুটের ঘটনা এ প্রথম নয়, এর আগেও বেশ কয়েক দফায় দেখা গেছে এ ধরনের লুটপাট যার মধ্যে গত কয়েকদিন আগেই কেন্দা শালডাঙ্গা পাম্প হাউসে এই একই ধরনের ঘটনা ঘটে, আর তার আগে চিচুড়িয়ায় এরকমই দুষ্কৃতি দল লুট করে নিয়ে যায় ট্রান্সফরমার।














যদিও তফসিল এলাকাতেও এরকম ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেলেও সেখানে এই ঘটনা নিয়ে অতটা হইচই হয়নি। তবে কেনই এত সফ্ট টার্গেট হচ্ছে এই ট্রান্সফরমার লুট তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। এবারের এই ট্রান্সফরমার লুট করে নিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হলেও দুষ্কৃতী দল তার মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও ধাতব সব পদার্থ লুট করে চলে যায়। সাধারণের মনে প্রশ্ন ইসিএলের একটার পর একটা এলাকায় কেন হচ্ছে এই দুষ্কৃতী দলের টার্গেট কেনই বা রোখা যাচ্ছেনা এই বিশেষ দলকে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সকলে।
শনিবার এই লুটপাটের ঘটনার কথা রবিবার সকালে উঠে আসে ইসিএলের কুনুস্তোরিয়া কোলিয়ারির পাম্প হাউসে সামনে, আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে একদল অজ্ঞাত দুষ্কৃতী পাম্প হাউসে ঢুকে কর্তব্যরত পাম্প অপারেটরের উপর হামলা চালায় পরে তাকে বেঁধে রেখে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়।
সূত্রের খবর, দুষ্কৃতীরা চালু লাইনের কেবল কেটে দেয় আর পাম্প হাউসে থাকা ট্রান্সফরমারের সঙ্গে থাকা মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করে, সে সঙ্গেই মোটা কেবলসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। শ্রমিক নেতাদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীরা পাম্প হাউসে ঢুকে এভাবে ডাকাতি চালানোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁদের মতে, এই ঘটনায় পাম্প অপারেটরের প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল।
শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ইসিএল কর্তৃপক্ষ কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। আর সে সঙ্গেই সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হোক ও নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা রোধ করা যায় তারই দাবি তোলে তারা।
অন্যদিকে, ঘটনার পর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার হয় বলে জানা গেছে। তবে বারংবার এই ঘটনা রুখে দিতে আগামীতে প্রশাসন কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেদিকেই লক্ষ্য রেখেছে এলাকাবাসী।

