প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় তথা রেলকর্মীর মৃত্যুতে উত্তেজনা,পথ অবরোধ ও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, কাজল মিত্র : হকি খেলোয়াড় তথা রেলকর্মী এরিক লাকড়া (৫০) মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিলো চিত্তরঞ্জন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে এদিন তিন নম্বর গেটের সামনে মৃতদেহ রেখে রাস্তা অবরোধ করেন উত্তেজিত পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।পরবর্তীতে চিত্তরঞ্জন থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।জানা গিয়েছে, গত ৮ই মার্চ রাতে স্টেশন চকের কাছে সামান্য বিবাদকে কেন্দ্র করে অশান্তি শুরু হয়।














অভিযোগ,কিছু যুবক এরিক লাকড়া বাবুর পিছু ধাওয়া করে চিত্তরঞ্জন অফিসার্স ক্লাব হাউসের সামনে লোহার রড দিয়ে তাঁর ওপর নৃশংস হামলা চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দীর্ঘ ২২ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।এরিক লাকড়া মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। এদিন ‘অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এসসি-এসটি অ্যাসোসিয়েশন’ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তিন নম্বর গেটের সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শ্লোগান ও দাবির চাপে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চিত্তরঞ্জন পুলিশ ও আরপিএফের বিশাল বাহিনী।
বিক্ষোভকারীরা এরপর মৃতদেহ নিয়ে চিত্তরঞ্জন থানার সামনে অবস্থান করেন। পুলিশের আশ্বাসের পর দীর্ঘক্ষণ চলা এই বিক্ষোভ ও অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।মামলাটি খতিয়ে দেখে সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে পুলিশ তিনজনকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা হলো আয়ুষ ভগত (চিত্তরঞ্জন),রাজা খান (মিহিজাম),শুভম পাণ্ডে (জামতাড়া) প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে এখন তাদের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক।
চিত্তরঞ্জন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ইসমাইল আলি জানান, তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি স্পষ্ট—যতক্ষণ না দোষীরা ধরা পড়ছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে। বর্তমানে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

