ASANSOL

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির ” ভরসার শপথ সংকল্প পত্র ” আসানসোল সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বর সাংবাদিক সম্মেলন

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোল জেলা বিজেপি কার্যালয়ে রবিবার বিকেলে আসানসোল সাংগঠনিক জেলা মিডিয়া ইনচার্জ টিঙ্কু বর্মা এবং জেলা কোষাধ্যক্ষ অভয় কুমার বার্নওয়াল একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য দলের “ভরসা শপথ সংকল্প পত্র” র প্রধান ১৫টি দিক তুলে ধরেন।তারা বলেন , এই সংকল্প পত্র আসলে বাংলার পুনর্জাগরণের একটি রূপরেখা। এই সংকল্প পত্রে বাংলায় নারী ও যুব ক্ষমতায়নের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। তারা আরো বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আগামী ৫ বছরে যুবকদের জন্য ১ কোটি চাকরি ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। সুরক্ষা ও সুশাসনের জন্য জাতীয় নিরাপত্তায় বিজেপি সরকার বিশেষ নজর দেবে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ করবে বিজেপি সরকার।

রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ( ইউসিসি) কার্যকর করার সংকল্প নেওয়া হয়েছে।বিজেপি নেতারা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের দুর্নীতি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে। সিন্ডিকেট রাজ ও ‘কাট মানি’ সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করা হবে। গবাদি পশু পাচার রুখতে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং ‘বন্দে মাতরম’ সংগ্রহশালা স্থাপন করা হবে।টিঙ্কু বর্মা বলেন, কৃষক ও শ্রমিক কল্যাণের জন্য কৃষি ক্ষেত্রে ধান, আলু ও আম চাষের জন্য বিশেষ সহযোগিতা এবং কৃষকদের ফসলের সঠিক সহায়ক মূল্য প্রদান করা হবে।

এর পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের কথা মাথায় রেখে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’-র অধীনে সমস্ত মৎস্যজীবীদের নথিভুক্তি এবং অত্যাধুনিক রপ্তানি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সকল সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ডিএ নিশ্চিত করা এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। সংস্কৃতি ও ভাষার ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ভাষার সম্মান কুড়মি ও রাজবংশী ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফশিলভুক্ত করা হবে।ধর্মীয় স্বাধীনতাও থাকবে। পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হবে। বাংলার শিল্প ও পর্যটন দেশের মধ্যে প্রথমসারীতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন সরকার দার্জিলিং চায়ের ব্র্যান্ডিং জোরদার করা এবং বন্ধ চা বাগানগুলির পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগী হবে।তারা সবশেষে বলেন , কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উন্মোচন করা এই সংকল্প পত্র কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলাকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার একটি দৃঢ় অঙ্গীকার। বিজেপি যা বলে, তা আক্ষরিক অর্থেই পালন করে বলে বিজেপি নেতাদের দাবি।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *