ASANSOLDURGAPUR

দুর্গাপুরের সভায় তোপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে বেআইনি কাজে সুবিধার জন্যই অফিসারদের বদলি

*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* এইসব কিছু ভ্যানিশ কুমার ও বিজেপির চাপিয়ে দেওয়া একটা ” সুপার ইমার্জেন্সি”। তিনি বিজেপির ইশারায় নাচছেন। আমাদের সব অফিসারদের বদলি করে দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটের সময় তারা অনায়াসে টাকা, অস্ত্র এবং মাদক নিয়ে আসতে পারে।সোমবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের চতুরঙ্গ ময়দানের জনসভা থেকে এইভাবেই তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি লড়াই করতে ভয় পাই না।

আমাদের উপর অনেক আক্রমণ হয়েছে এবং সব কিছুই একতরফাভাবে করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও আমি রাজ্যের প্রতিটি কোণায় যাচ্ছি। মানুষের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছি। মনে রাখবেন, আমি বছরের ৩৬৫ দিনই আপনাদের সাথে থাকি। আমার ব্যক্তিগত কোনও লাভ নেই, আমি কখনও বাংলাকে ছেড়ে যাইনি আর ভবিষ্যতেও যাব না। আমার সাথে আসানসোল ও দুর্গাপুরের দলের প্রার্থী কবি দত্ত, প্রদীপ মজুমদার, মলয় ঘটক, হরেরাম সিং এবং নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আছেন।

আমি আপনাদের কাছে তাঁদের সমর্থনের আবদেন জানাচ্ছি।দিল্লিতে বসে থাকা বিজেপির গুন্ডারা প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রায় ৩৫,০০০ নাম কেটে দিয়েছে। তারা জানে বাংলার মানুষ ওদের ভোট দেবে না। তাই এভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আর বিজেপিকে তলায় তলায় কংগ্রেস এবং সিপিএম সমর্থন করে যাচ্ছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রমণ করে বলেন, আমি কার জন্য কাজ করিনি? ওরা নিষ্ঠুরভাবে বাংলার ভোটারদের নাম কেটেছে।

আমি ন্যায়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। তাতে ৩২ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া থেকে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবুও অনেক মানুষের নাম এখনও ভোটার তালিকায় নতুন করে তোলা বাকি আছে। তার বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ, যদি সাহস থাকে, তবে ২০২৪ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই নির্বাচন লড়ুক। যদি তা না পারে, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যিনি এই ভোটার তালিকায় থাকা ভোটারদের দ্বারাই নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

তার প্রশ্ন, দুর্গাপুরের মানুষ কি অনুপ্রবেশকারী? আপনারা কি এর প্রতিবাদ করবেন না? প্রতিটি অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। এটি ভ্যানিশ কুমার এবং বিজেপির চাপিয়ে দেওয়া একটি ‘সুপার ইমার্জেন্সি’। তিনি বিজেপির দালালি করছেন। কিছু লোক নিজেদের স্বার্থে বিজেপির এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। সেই কারণেই রাজ্যের মুখ্য সচিবকে বদলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সিএস বা চীফ সেক্রেটারি আমার সাথে কথাও বলেন না। মনে রাখবেন, আমি এখনও এই রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজি-সহ আরও অনেক উচ্চপদস্থ অফিসারকে সরিয়ে বিজেপির ঘনিষ্ঠদের বসানো হয়েছে। এখন মহিলাদের ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে, এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক!আমি শুনেছি মুখ্য সচিব এবং পুলিশের ডিজি বিভিন্ন জেলা সফর করছেন। তারা জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিচ্ছেন বুথ এজেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করতে এবং গাঁজার মিথ্যে মামলায় ফাঁসাতে। ওদের লজ্জা হওয়া উচিত। আমি এও শুনেছি যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ছদ্মবেশে বিজেপি কর্মীরা ভোটের দিন মনিটরিং সেলে বসে থাকবে।

কেন্দ্রের শাসক দলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, সারা পৃথিবী এখন বিজেপি নেতাদের চরিত্র জেনে গেছে। যদি গায়ের জোরে ভোট জিততে চান, তবে আমাকে জেলে পাঠান। আমি জেল থেকেই আরও বেশি ভোট পাব। নয়তো আমাকে গুলি করুন। আপনারা নারী-বিরোধী। আপনারা সংবাদমাধ্যমকে কিনে নিয়েছেন এবং তারাই আপনাদের হয়ে প্রচার চালাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে দেখানো সার্ভেগুলো বিজেপি নিজেই তৈরি করে এবং সেগুলো দেখানোর জন্য ভয় দেখানো হয়। আপনারা কারও কাছ থেকে বিচার পাবেন না।

আমি ছাড়া সবাই বিক্রি হয়ে গেছে। দিল্লির শক্তিদের মনে রাখা উচিত, যদি তারা অত্যাচার করে, তবে আমাদের মা-বোনেদের কাছে আগে জবাব দিতে হবে। এটা বিহার বা উত্তরপ্রদেশ নয় যে আপনারা বুলডোজার চালাবেন বা এনকাউন্টার করবেন। এটা বাংলা একবার ভালো করে মনে রাখবেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পার্লামেন্টে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। অন্য দুটি দলের সমর্থনে তারা ক্ষমতায় আছে এবং ইডি ও সিবিআই দিয়ে সরকার চালাচ্ছে।

আমি আমার এজেন্টদের বলব ভয় পাবেন না। ওরা ইচ্ছে করে গণনার প্রক্রিয়া ধীর করে দেবে এবং বিজেপি জিতছে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। আমি নিশ্চিত বিজেপি জিতবে না। বাংলার যে ভোটাররা এখনও ভোট দেওয়ার যোগ্য, তারা বিজেপির পক্ষে ভোট দেবে না। প্রধানমন্ত্রীর সভায় লোক ভরাতে বাইরে থেকে লোক আনা হয় এবং গরিব মানুষদের ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। আমার এসবের প্রয়োজন নেই, আমি স্থানীয় মানুষের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে ভালোবাসি।তিনি বলেন, অন্ডাল বিমানবন্দর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৈরি করেননি।

এটা সিঙ্গাপুর সরকারের সহযোগিতায় করা হয়েছে। যেখানে সিঙ্গাপুর সরকারের ১১% শেয়ার রয়েছে। এখান থেকে আপনারা বিশ্বের যে কোনও জায়গায় যেতে পারবেন। বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলাম জামুড়িয়ায় চুরুলিয়ায় জন্মেছিলেন। আমরা অন্ডাল বিমানবন্দরের নাম তাঁর নামে রেখেছি। তাঁর সম্মানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়েছি। আসানসোল দুর্গাপুর নিয়ে নতুন পুলিশ কমিশনারেট তৈরি করেছি। পানাগড় শিল্প করিডোর তৈরি করেছি। কেন্দ্রের সব শিল্প ধুঁকছে, তারা আধুনিকীকরণের টাকা দেয় না। আমরা ইকোনমিক করিডোর বানিয়েছি।

রঙ এবং গ্যাস কোম্পানি এখানে এসেছে। অনেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে। বার্নপুর সেল আইএসপি বা ইস্কো কারখান ও চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার বেহাল দশাটা একবার দেখুন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে যে তারা শূন্যপদ পূরণ করবে। যদি তাই হয়, তবে কেন তারা ইস্কো , চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা, সেল , রেল ও ডিফেন্সের শূন্যপদ পূরণ করেনি? বিজেপি এবং তাদের হাতের পুতুলদের সতর্ক করে বলছি, এখানে নোংরা খেলা খেলবেন না। সীমা ছাড়াবেন না। বিজেপির চেয়ে সাপকে বিশ্বাস করাও ভালো বলে এদিনের সভা থেকে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *