মলয় ঘটকের হাত ধরে আসানসোলে শ্রমিক মেলার উদ্বোধন; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার নবরুপকার রূপে আখ্যা দিলেন রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী

সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত  , আসানসোল, ৬ ই জানুয়ারি, ২০২০:
গত পরশু শনিবার রাজ্যের আইন এবং শ্রমমন্ত্রী মাননীয় মলয় ঘটক আসানসোলে  উদ্বোধন করলেন “আসানসোল শ্রমিক মেলা ২০২০”।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে  এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাংলার ” নব রুপকার ” বলে আখ্যা দিলেন রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের এসবি গরাই রোডের বুধা ময়দানে শনিবার থেকে রাজ্য শ্রম দপ্তরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই মেলা। তিনদিনের এই মেলা চলবে আজ ৬ জানুয়ারি সোমবার পর্যন্ত। 
এদিন দুপুরে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে  এই মেলার উদ্বোধন করতে গিয়ে রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, আমি ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে ছোট করছি না। তিনি বাংলার জন্য অনেক কাজ করেছিলেন বলেই তাকে বাংলার ” রুপকার ” বলা হয়। তিনি ১৪ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি যখন রাজ্যের ক্ষমতায় আসেন, তখন তার সরকারের মাথায় কোন ঋণ ছিলোনা। কিন্তু, ২০১১ সালে মমতা বন্দোপাধ্যায়, যখন রাজ্যে ক্ষমতায় আসেন, তখন তার সরকারের মাথায় বাম সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ। তারপরের তার নেতৃত্বে গত ৮ বছরে সরকার বাংলায় যে পরিমানে উন্নয়ন করেছে, তাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ” বাংলার নব রুপকার ” বলা যেতেই পারে। মলয়বাবু আরো বলেন, রাজ্য সরকার বাংলার সবস্তরের মানুষদের কাছে সরকারি পরিসেবা ও প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে। রাজ্যে শ্রম দপ্তরের অধীনে সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় ৪৪টি স্কিম আছে। বাম সরকারের আমলে বাংলার মানুষেরা এইসব কিছু জানতো না। বাম আমলে ২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এই খাতে মাত্র ৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিলো। তারপরে এই সরকারের আমলে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই খাতে ১৫৪০ কোটি ব্যয় করা হয়েছে। আজ রাজ্যের অসংগঠিত শ্রমিকরা সরকারি কর্মীদের মতো বলতে গেলে সবকিছুই পায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ থেকে ৬০ বছরের পরে পেনশন সব দেওয়া হয়।

riju advt

  কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য সবকিছুই টিভির পর্দায় দেখায়। এরা শুধু গদিতে থাকতেই ভালোবাসে। দেশের মানুষ কোন কিছুর প্রতিবাদ করলেই, তার থেকে মানুষের মন ঘুরিয়ে দিতে এরা অন্য কিছু সামনে নিয়ে চলে আসে।     
     অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন শ্রম দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সৈয়দ আহমেদ বাবা, জয়েন্ট লেবার কমিশনার তীর্থঙ্কর সেনগুপ্ত, জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুভদ্রা বাউরি,  বিধায়ক তথা আসানসোল দূর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তাপস কুমার, জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম রায়, আসানসোল পুরনিগমের চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় সহ শ্রম দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের  আধিকারিকরা। 

শ্রম দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিনদিনের শ্রমিক মেলায় মোট ১০১৭ জন উপভোক্তার হাতে প্রায় ১ কোটি টাকার সুবিধা তুলে দেওয়া হবে।
   এই মেলাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল দুপুরবেলায় একটি বসে আঁকা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এরকম বেশ কিছু সাংস্কৃতিক    অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এবং মেলা কমিটির থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এবারের মেলায় লোকসমাগম গতবারের তুলনায় অনেকটাই বেশি হয়েছে।