চুরুলিয়ায় কোয়ারন্টাইন সেন্টার তৈরী করে আক্রান্তদের রাখাকে কেন্দ্র করে পুলিশ জনতা খণ্ডযুদ্ধ; ওসি সহ অন্যান্য পুলিশকর্মীরা গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন; আহত পুলিশকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে এম এম আই সি পূর্নাশশী রায়

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২০, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত:   কোভিড-১৯ ( করোনা) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে লক ডাউন আগামী ৩ রা মে পর্যন্ত বাড়ানোর কথা আজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আর ঠিক এরই প্রাক্কালে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরী ঘিরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুরিয়ার চুরুলিয়াতে আজ সকাল গড়াতেই পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় । 

riju advt

সূত্র মারফত খবর, স্থানীয় ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরিকে কেন্দ্র করে এক সম্প্রদায়ের মানুষ হঠাৎ  উত্তেজিত হয়ে পড়ে । ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে বোঝাতে গেলে পুলিশের সঙ্গেও হাতাহাতি বেঁধে যায়। উত্তেজিত জনতার মধ্যে থেকে গুলিও চলে এবং এরই  পাল্টা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে।

গোটা এলাকা মুহুর্তের মধ্যেই উত্তেজনাপ্রবন হয়ে পড়ে। ঘটনার খবর করতে গিয়ে আহত হন  সংবাদমাধ্যমের বেশ কিছু সাংবাদিক। 

বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, জামুড়িয়ার চুরুলিয়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করতে গিয়েই এই খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। 

 করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত সন্দেহে কিছু মানুষকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তাদের আশঙ্কার কারণ এই এলাকায় করোনা ভাইরাস থেকে মহামারী ছড়িয়ে পড়তে পারে।
 ফলে মুহুর্তেই পুলিশের টিমের উপর ঢিল ছুড়ে তাদেরকে  এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা করতে চেষ্টা করে জনতা।

পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা বাইক এবং গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ রীতিমত হিমসিম খায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

  আহত কিছু পুলিশ কর্মীকে  আসানসোল জেলা হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে আসেন আসানসোল করপোরেশনের মেয়র পারিষদ পূর্নশশী রায়

। তাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “সকালবেলা খবর পাই চুরলিয়া যুব আবাস কে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরী করাননি এলাকার মানুষ আপত্তি জানায় এবং এর বিরোধিতায় একটি বড় ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঝামেলা থামাতে গেলে আহত হন জামুরিয়া থানার ওসি সুব্রত ঘোষ সহ আরো অনেক পুলিশ কর্মী। জামুড়িয়ার ওসি গুরুতর আঘাত নিয়ে ভর্তি রয়েছেন রানিগঞ্জের  ” রয়্যাল কেয়ার” হাসপাতালে। এছাড়া থানার মেজবাবু এবং মিহিরবাবু আসানসোল হেলথ  কেয়ারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসানসোলের জেলা হাসপাতালে তিনজনকে তিনজনকে ভর্তি করা হলো। এছাড়া আরো কেউ যদি আহত হন তাদের চিকিৎসা যাতে ঠিকভাবে হয় সেটা তিনি দেখবেন। প্রশাসন প্রশাসনের মত কাজ করছে।”

  করোনা উদ্ভুত এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরিকে কেন্দ্র করে চুরুলিয়ার এই উত্তপ্ত ঘটনা শিল্পাঞ্চলে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।