আসানসোলের চিত্রা মোড়ের কাছে কিশোরের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে অবশেষে গ্রেপ্তার মৃত কিশোরের পিতা

আসানসোল, বেঙ্গল মিরর,  সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত: 
সোমবার রাতে আসানসোলে হীরাপুর থানার অন্তর্গত রাধানগর রোডে চিত্রা সিনেমার পিছনের দিকে পাঞ্জাবী পাড়াতে নিজের বাড়ির ভেতরেই ১২ বছরের এক কিশোরের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরী হয়।

riju advt

মৃত কিশোরের কপালে গুলি লেগেছিল। পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ওই কিশোরকে হত্যা করা হয়েছিল ওই কিশোরকে।

  মৃত কিশোরের নাম শরণদীপ সিং কোহলান (১২)। মৃত কিশোরের আত্মীয়রা তার পিতার দিকেই  হত্যাকাণ্ডের পেছনে সন্দেহ প্রকাশ করে অভিযোগ করার পর  পুলিশ অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে তদন্ত শুরু করে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবার পর পুলিশ এই মামলায় কিশোরের পিতা ভূপিন্দর সিং কোহলান কে গ্রেফতার করে। পুলিশের জেরায় ভূপিন্দর নিজের ছেলেকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা যায়। বুধবার ভূপিন্দর সিংকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। 
 পুত্র হত্যায় ধৃত পিতার  বিরুদ্ধে  আইপিসির ধারা ৩০২/২০১ ও আর্মস এক্টের ধারা ২৫ ও ২৭(এ) প্রয়োগ করে খুন, খুনের পর তথ্য গোপন এবং বেআইনি অস্ত্র রাখা ও ব্যবহারের মামলা রুজু করা হয়েছে।
 প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে রাধানগর রোডের পাঞ্জাবি পাড়া অঞ্চলে এক ১২ বছরের কিশোর সরনদীপ সিং কোহলান কে তার বাড়িতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তার বাবা ভূপিন্দর সিং কোহলান জমি কেনা বেচার কাজের সাথে যুক্ত ছিল। তাই মনে করা হয়েছিল যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাণিজ্যিক শত্রুতা হতে পারে। যদিও হিরাপুর থানার পুলিশ সরনদীপের বাবা ভূপিন্দর সিং কোহলান কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। 
কিশোরের বাবা ভূপিন্দর সিং দাবি করেছিল, বাড়ির জানালা খোলা ছিল, সেখান থেকেই কেউ গুলি চালিয়ে মেরে ফেলেছে ছেলেকে। যদিও পুলিশ ভুপিন্দরের দেওয়া এই তত্ত্বকে বিশ্বাস না করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। কারণ তালা বন্ধ ঘরে কিভাবে গুলি করে রহস্যজনকভাবে হত্যা হল তা নিয়ে পুলিশের মনে ধন্দ তৈরী হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ অনুমান করেছিল, যদি শরণদীপ আত্মহত্যা করে তাহলে ঘটনাস্থান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যাবে কিন্তু সেটিও পাওয়া যায়নি।
আবার এটিও দেখা হয় যদি জানালার বাইরে থেকে যদি গুলি করা হয়, তাহলে কপালে  গর্ত আরো বড় হত কিংবা এসমস্ত ক্ষেত্রে খুলি উড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল কিন্তু তাও হয়নি। পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করার তত্ব খতিয়ে দেখা হয়। প্রথম দিকে মৃতের পিতা ভূপিন্দর বলেছিলেন “কেউ কি নিজের ছেলেকে খুন করতে পারে?”
 এরপর দফায় দফায় পুলিশি জেরার মুখে পড়ে ভূপিন্দর নিজের ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করে। 
 খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ খোলসা করে বলেনি ।
  অনুমান করা হচ্ছে পুলিশ নিজের হেফাজতে নিয়ে খুনের মোটিভ এবং বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করবে।