ASANSOLASANSOL-BURNPUR

বিএসএফের কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমারকে জামিন নাকচ, ১০ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ

১৪ দিনের রিমান্ড শেষে সিবিআইয়ের আদালতে পেশ বিচারকের

বেঙ্গল মিরর, রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ২ ডিসেম্বরঃ বাংলা সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে গরু পাচার চক্রের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে যোগসাজশ ,দুর্নীতি ও বেআইনিভাবে টাকা আয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিএসএফের কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমারকে বুধবার ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আসানসোলের সিবিআই আদালতে পেশ করা হয়।

Photo by sujit balmiki

এদিন তার জামিন নাকচ করে ১০ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দিলেন আসানসোল সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়। আগামী ১১ ডিসেম্বর আবার সতীশ কুমারকে আসানসোলের সিবিআই আদালতে তোলা হবে। এদিন আদালতে শুনানির শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানন সতীশ কুমারের অন্যতম আইনজীবী কুমারজ্যোতি তেওয়ারি।

সতীশ কুমারকে সিবিআই ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছিল


প্রসঙ্গতঃ, কলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআই দপ্তরে প্রায় সাত ঘণ্টা জেরা করার পরে বর্তমানে ছত্রিশগড়ের রায়পুরে কর্মরত বিএসএফের কমান্ডেন্ট সতীশ কুমারকে সিবিআই ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছিল। পরের দিন ১৮ নভেম্বর আসানসোলের সিবিআই আদালতে তাকে তোলা হলে সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক তার জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের সিবিআই রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন।


বুধবার সকাল এগারটা নাগাদ সতীশ কুমারকে কলকাতা থেকে আসানসোল আদালতে সিবিআইয়ের অফিসাররা নিয়ে আসেন। পরে তাকে সিবিআই আদালতে তোলা হলে। সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন , আমরা আপাততঃ তাকে হেফাজতে নিতে চায়না। তবে তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হোক। সিবিআইয়ের আইনজীবী দাবি করেন, সতীশ কুমারক জামিন দেওয়া হলে এই মামলায় বিএসএফের তাদের যোগসাজশ আছে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করবেন। তিনি সাক্ষীদেরও প্রভাবিত করতে পারেন।


সতীশ কুমারের দুই আইনজীবী কুমারজ্যোতি তেওয়ারি ও শেখর কুন্ডু পাল্টা সওয়াল করে বলে, ১৪ দিন সিবিআই সতীশ কুমারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেও তদন্তের অগ্রগতি হিসাবে কোন প্রমাণ পায়নি। এমনকি সিবিআইয়ের তরফে বারবার বলা হয়েছে বিএসএফের ও কাস্টমসের অনেকেই এতে যুক্ত রয়েছে । কিন্তু এখনো পর্যন্ত কারোর নাম সিবিআই জানাতে পারেনি বা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ।

এছাড়া পাচারের সময় গরু চুরি ধরা পড়ার কোন সিজার লিস্ট সিবিআই আদালতে জমা দিতে পারেনি। শেখরবাবু আরো বলেন, স্বাভাবিকভাবেই যেহেতু কোনো প্রমাণ তারা পেশ করতে পারেননি। তাই সেকশন ৭ অর্থাৎ প্রিভেনশন অফ কোরাপশান আইন এক্ষেত্রে কার্যকর হয় না ।

দ্বিতীয়ত তার বিরুদ্ধে ১৩ নম্বর ধারায় যে মিসকন্ডাক্ট আইনের কথা বলা হয়েছে সেখানে তার শ্বশুরের ১৩ কোটি টাকার উল্লেখ করা হয়েছে ভিডিএস প্রকল্পে। এখানে স্বেচ্ছায় ঘোষণা করে আয়কর দপ্তরের নিয়ম মেনে সেই টাকা জমা পড়েছে। এর সঙ্গে তাকে ঐ ধারায় জড়ানো যায় না। আমরা আরো বলেছিলাম করোনা পরিস্থিতিতে তাকে জামিন দেওয়া হোক। এরপর বিচারক সিবিআইয়ের আইনজীবির কাছে জানতে চান করোনা

জামিন পেলে তথ্য প্রমাণ লোপাট বা অন্যদের প্রভাবিত করতে পারেন

পরিস্থিতিতে তাকে জামিন দিলে অসুবিধা হবে কিনা? তাতে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধৃত ক্ষমতাশালী। আমরা ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় চিঠি পাঠিয়েছি। তিনি জামিন পেলে তথ্য প্রমাণ লোপাট বা অন্যদের প্রভাবিত করতে পারেন । বিচারক দুপক্ষের সওয়াল জবাব শুনে সতীশ কুমারের জামিন নাকচ করে ১০ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দেন।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *