বার্ণপুরে শোকের ছায়া, উত্তরবঙ্গে ট্রেন দূর্ঘটনায় রেলকর্মীর মৃত্যু

বেঙ্গল মিরর, রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ১৪ জানুয়ারিঃ উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির দোমহনীতে বিকানের – গুয়াহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন দূর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়া যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন এক রেল কর্মী। অজিত প্রসাদ (৩৩) নামে মৃত ঐ রেল কর্মীর বাড়ি পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের হিরাপুর থানার বার্ণপুরের রাধানগর রোডের তালপুকুরিয়া এলাকায়।

বার্ণপুরে শোকের ছায়া
file photo from facebook


মাত্র ৬ বছর আগে (২০১৬ সালের মার্চ মাসে) অজিত প্রসাদ রেলে চাকরি পেয়েছিলো। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রসাদ পরিবারের সদস্যরা শোকস্তব্ধ। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল অজিত প্রসাদের বিয়ে হয়েছিলো। অজিতের মৃত্যুর কথা স্বাভাবিক ভাবেই তার স্ত্রীকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত জানানো হয়নি।


রেলের ট্র্যাক মেনটেনার পদে চাকরি পাওয়া অজিত প্রসাদ বর্তমানে উত্তর বঙ্গের মালেগাঁও ডিভিশনে গেটম্যান হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
তার ট্রেন দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে, এমন আশঙ্কার কথা জানার পরেই বৃহস্পতিবার রাতেই জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় অজিত প্রসাদের দাদা সুজিত প্রসাদ ও ছোট ভাই অমরজিৎ প্রসাদ।


শুক্রবার সন্ধ্যায় অজিত প্রসাদের কাকা বাব্বন প্রসাদ বলেন, ওখানে দুই ভাইপো অজিতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পরে হাতে পেয়েছে। তারা মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছে।
তিনি আরো বলেন, হিরাপুর থানা, জেলা প্রশাসন বা এখানকার রেলের তরফে আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। অজিতের সহকর্মীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় আমাদের ফোন করে বলে যে, সে ট্রেনে আসছিলো। আমরা সঙ্গে সঙ্গে অজিতের ফোনে যোগাযোগ করি। প্রথমে রিং হয়ে গেলেও, কেউ ফোন তোলেনি। পরে ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমাদের আশঙ্কা বেড়ে যায়। রাতেই অজিতের দাদা ও ভাই সেখানে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যায়। বাব্বনবাবু বলেন, মাত্র কয়েক মাস হলো বিয়ে হয়েছিলো। স্ত্রীকে বলা হয়নি। কি যে হলো বুঝতে পারছি না।


অজিত প্রসাদের এক বন্ধু রাধানগর রোডের বাসিন্দা শম্ভু প্রসাদ বলেন, বৃহস্পতিবার আমরা ট্রেন দূর্ঘটনার কথা জানতে পারি।
প্রসাদ পরিবারের সদস্য ও তার বন্ধুরা জানেন না, ঐ ট্রেনে কোথা থেকে অজিত ফিরছিলো। কোথায় সে গেছিলো। তবে তারা তার সহকর্মীদের থেকে জেনেছেন, অজিত জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে গুয়াহাটি গামী বিকানের – গুয়াহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপেছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *