ASANSOL

আসানসোলে প্রকাশ্য দিবালোকে বন্দুক উঁচিয়ে যুবকের দাপাদাপি জমি দখলে তিন রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ, চাঞ্চল্য

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, দেব ভট্টাচার্য, রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ ( Asansol Live News Today ) জমি দখল করতে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের সামনে বন্দুক উঁচিয়ে যুবকের দাপাদাপি। সবার সামনে তিন রাউন্ড গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকাল থেকে আসানসোল উত্তর থানার এলাকায় একটি জায়গায় প্রকাশ্যে বন্দুক উঁচিয়ে গুলি চালানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই ভিডিওর সত্যতা অবশ্য যাচাই করা হয় নি। ভাইরাল হওয়া ঐ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক যুবক জমির মধ্যে বন্দুক নিয়ে ছুটছে, আবার বন্দুকটা কোমরে গুঁজে নিচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ প্রকাশ্যে বিবেক বাউরি নামে ঐ যুবক মঙ্গলবার গুলি চালিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল আসানসোল উত্তর থানার আসানসোল পুরনিগমের ১৩ নং ওয়ার্ডের চক কেশবগঞ্জের বাউরি পাড়া এলাকায়। এই এলাকা আসানসোল উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। এই কেন্দ্রের বিধায়ক হলেন রাজ্যের আইন ও পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী মলয় ঘটক।


বুধবার এই ঘটনার কথা জানার পরে আসানসোল উত্তর বিধান সভা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি কাউন্সিলর উৎপল সিনহা ও ১৩ নং কাউন্সিলর রিনা মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, তারা পুলিশকে গোটা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলেছেন। বিবেক বাউরি নামে যে যুবক গুলি চালিয়েছে বা যারা বাইরে থেকে এসে এখানে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অবিলম্বে নিতে হবে বলে তারা বলেন ।
বুধবার বিকেলের পরে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছে অভিযুক্ত যুবককে খোঁজ করে গ্রেপ্তারের জন্য। কিন্তু পুলিশ চেষ্টা করেও তাকে পাইনি। পুলিশ জানায়, যুবক বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।


এদিকে এই ঘটনার পরে বুধবার বিকেলে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে ঐ এলাকার ৬০ বিঘা জমি মালিক দাবী করে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিজয় কুমার বর্ণওয়াল নামে এক ব্যক্তি পুলিশ কমিশনারকে এই বিষয় পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছেন।
চক কেশবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা অম্বা দাস ও মনোরঞ্জন বাউড়িরা বলেন, আমাদের গ্রামে একটি দীর্ঘদিনের দেবত্তর সম্পত্তি আছে। এই সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করছে জমি মাফিয়ারা। এমনকি ইটের গাঁথনি করে পাঁচিল দিয়ে ঐ জমি দখলে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় তারা । জমি মাফিয়াদের সেই কাজ মঙ্গলবার আমরা আটকাতে গেলে স্থানীয় যুবক বিবেক বাউরি কয়েক জনকে নিয়ে বন্দুক উঁচিয়ে সেখানে আসে। তারা তিন রাউন্ড গুলিও চালায়। যদিও সেই গুলি কারোর লাগেনি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ আসে ও কাজ বন্ধ করে দেয়।


বুধবার এলাকায় পৌঁছান স্থানীয় কাউন্সিলর রিনা মুখোপাধ্যায়। পরে তিনি বলেন, আমি চার মাস হল এই এলাকায় কাউন্সিলর হিসেবে জিতেছি। এখানে জমি মাফিয়া দের দাপট যথেষ্ট রয়েছে। এতটাই দাপট যে ঠিকাদাররাও ঠিকঠাক কাজ করতে আসতে চায় না। জেনেছি ঐ এলাকায় একটি জমির বিবাদকে কেন্দ্র করে বিবেক বাউরি নামে এক যুবক গুলি চালিয়েছে। আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি ঐ যুবককে গ্রেফতার করতে হবে। তার সঙ্গে যারা আছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে এটা আরো ভয়ংকর আকার নেবে। পাশাপাশি ওখানে বেশ কিছু চাষী দীর্ঘকাল ধরে জমিতে চাষ করছে । জমি যদি কিনে কেউ কিছু করতে চান, তাহলে তার আইনগত দিক আছে। আমি গোটা ঘটনার কথা মন্ত্রী মলয় ঘটককে জানিয়েছি।


আসানসোল উত্তর বিধান সভার তৃনমুল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি কাউন্সিলর উৎপল সিনহা বলেন, ঐ এলাকায় জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ব আছে। সেখানে গুলি চালানোর ঘটনা নিশ্চয়ই আমাদের সকলকেই অবাক করেছে। আমি উত্তর থানার ওসিকে বলেছি কোথাও কোনোভাবে রং দেখবেন না। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করুন। তার দাবি, যারাই কাজটা করেছে তারা বিজেপির সমর্থক ও বহিরাগত।


অন্যদিকে বিজয় কুমার বর্ণওয়াল নামে এক ব্যক্তি একটি বেসরকারি সংস্থার প্যাডে বুধবার পুলিশ কমিশনার এন সুধীর কুমার নীলকান্তমকে চিঠি দিয়ে বলেন, এই এলাকায় তাদের ৬০ বিঘা জমি আছে। ১৪ বছর ধরে তিনি সেখানে গুদাম চালান। সেখানে যখন মঙ্গলবার পাঁচিল দেওয়ার কাজ করা হচ্ছিলো, তখন একজন এসে তার কাছে মাসে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা তোলা দিতে হবে বলে দাবি করেন। সেই টাকা না দিলে তাকে মারা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সব অভিযোগই পুলিশের তরফে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে নেমেছে বলে এদিন আসানসোল উত্তর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *