RANIGANJ-JAMURIA

ইসিএলের পরিত্যক্ত চানকে পড়ে নিখোঁজ যুবক, পরে দেহ উদ্ধার

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, চরণ মুখার্জী, দেব ভট্টাচার্য ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* হারিয়ে যাওয়া গরু খুঁজতে গিয়ে ইসিএলের পরিত্যক্ত চানকে পা পিছলে পড়ে নিখোঁজ হলো এক যুবক। শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয় যুবকের দেহ।
শুক্রবার সকাল থেকে তাকে উদ্ধার করার কাজে নামে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের জামুড়িয়া থানার পুলিশ ও ইসিএলের উদ্ধারকারী দল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের জামুড়িয়া থানার পনিহাটির ইসিএলের এক পরিত্যক্ত খনি এলাকায়। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া যুবকের নাম শেখ আসরাফ মালিত ( ৩৫)। তার বাড়ি জামুড়িয়া থানার কৈথী গ্রামে।


পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ কৈথী গ্রামের শেখ আসরাফ মালিত পনিহাটি এলাকায় হারিয়ে যাওয়া গরু খুঁজতে যায়। কিন্তু আচমকাই সে পা পিছলে পরিত্যক্ত খনি চানকের জলে পড়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা প্রথমে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে। কিন্তু আসরাফের কোনো হদিশ না পাওয়ায়, তারা ফিরে এলাকায় খবর দেয় ।এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঐ এলাকায় ভিড় জমতে শুরু হয় । খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধারে নামে জামুড়িয়ার থানার পুলিশ ও ইসিএলের একটি দল।
শেষ পর্যন্ত বিকেলের পরে এলাকায় আসে জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের বিশেষ দল। তাদের চেষ্টায় এদিন সন্ধ্যেবেলা যুবকের দেহ উদ্ধার হয়।এরপরেই দেহ রেখে ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাত্রে এই খবর লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তার পরিজন ও এলাকার বাসিন্দারা বলে জানা গেছে ।


এই প্রসঙ্গে, বিধায়ক হরেরাম সিং বলেন, বৃহস্পতিবার গরু খুঁজতে এসে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে মৃত্যু হওয়া যুবকের দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত যুবক স্থানীয় কৈথি এলাকার বাসিন্দা।
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা ও বিরোধীদলের একাধিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, পরিত্যক্ত খনি চানকে অবৈধ ভাবে কয়লা কাটতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঐ যুবকের সঙ্গে আরো তিনজন ছিল। সম্ভবতঃ তারা উল্টো দিক দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে উঠে পড়েছিল। এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিধায়ক হরেরাম সিং বলেন, সকাল থেকেই বিরোধীরা অবৈধ কয়লা কাটা কথা বলে অপপ্রচার করছে। এটা ঠিক নয়।
পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে জামুড়িয়া থানার পুলিশ।
তবে এই ঘটনার পরে আবারও প্রশ্নের মুখে ইসিএলের ভূমিকা ও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *