ASANSOL

রানিগঞ্জে সোনার দোকানে ডাকাতি : ট্রানজিট রিমান্ডে মেঘালয় থেকে আনা হলো ধৃতকে , তোলা হবে আসানসোল আদালতে

বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ ( Asansol Raniganj News Today ) দুদিন আগে গত শুক্রবার রানিগঞ্জে সোনার দোকানে ডাকাতির ( Raniganj Senco Gold Case ) ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের পঞ্চম সদস্য ধরা পডে পুলিশের জালে। সুদূর মেঘালয়ের ক্র্যাশার বা পাথর খাদানে লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি। বলতে গেলে পাতাল থেকে রানিগঞ্জের ডাকাতির অন্যতম পান্ডা বিবেক চৌধুরীকে খুঁজে আনল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ। মেঘালয় আদালত থেকে চারদিনের ট্রানজিট রিমান্ডে পাওয়ার পরে, তাকে রবিবার বিকেলে রানিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়।


জানা গেছে, মেঘালয়ের রিভৌ জেলার খানাপাড়া এলাকা থেকে পুলিস গ্রেফতার করে বিবেক চৌধুরিকে। বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা বিবেক রানিগঞ্জে ডাকাতি ঘটনায় সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছিল। ডাকাতের সময় আগ্নেয়ান্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো, সোনা লুট করা থেকে শুরু করে সবই করেছিল সে। এরপর ডাকাতি করে সে সিওয়ানে যায়। কিন্তু পুলিশ তার খোঁজ করছে। যে কোন সময় পুলিশ তার কাছে চলে আসতে পারে, এই আশঙ্কায় সে মেঘালয়ে চলে যায়। সেখানে তার এক দাদা ক্র্যাশার বা পাথর খাদানে কাজ করে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেখানে লুকিয়ে ছিলো বিবেক। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই খাদানই হানা দেয় পুলিশের একটি দল। সেই সময় খাদানে পাথর কাটার যন্ত্র চালানো তার দাদার সঙ্গেই হেঁটে আসছিল সে। বাংলার পুলিশ যে সেখানেও পৌঁছে যেতে পারে তা বুঝে উঠতে পারেনি বিহারের ঐ দুষ্কৃতি।


জানা গেছে, পুলিশের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই বিবেককে গ্রেফতার করা। রানিগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় পুলিসের গুলিতে আহত হওয়া সঙ্গীকে নিয়ে ডাকাত দল, দু’ভাগে ভাগ হয়ে আত্মগোপন করেছিলো। কিন্তু পুলিশ আস্তে আস্তে সেই ডাকাতদলকে গ্রেফতারের তৎপর হয়। ইতিমধ্যে গুলিবিদ্ধ সোনু সিংকে নিয়ে পালানো চার ডাকাত দলের তিনজনকে পুলিস গ্রেফতার করেছে । তবে ডাকাতি হওয়া বেশ কিছু সোনা ও হীরের গয়না সহ চম্পট দেওয়া বাকি ডাকাতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এদেরকে গ্রেফতার করলেই সবকিছুর কিনারা হবে বলে আশা করছে পুলিশ। আর এই বিবেক ঐ দলে ছিল। এখন বিবেকের মাধ্যমে বাকি ডাকার দলের কাছে পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য পুলিসের।


আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানান, মেঘালয় থেকে সিওয়ানের বাসিন্দা বিবেক চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রানিগঞ্জ ডাকাতির করে সে সেখানে আত্মগোপন করেছিল। রানিগঞ্জের সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় সাতজন ডাকাত ছিল। একজন স্থানীয় সোর্স বা লিঙ্কম্যান ছিলো। সে তাদের সবকিছু সাহায্য করে। আর সবমিলিয়ে এই আট জনের দলের মধ্যে পুলিশ এখনও পর্যন্ত সোর্স সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছে । সোনা, হিরের গয়না নেপালে পাঠানোর পরিকল্পনা করে দিয়েই দেশের নানা প্রান্তে লুকিয়ে পড়তো ডাকাতরা। এটা‌ই ডাকাত দলের ছক ছিল বলেই অনুমান করছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে কেউ দক্ষিণ ভারতে গেছে। কেউ গোয়ার হোটেলে কাজ নেয়। সেই রকম ভাবে বিবেক গিয়েছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য মেঘালয়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে , আসানসোলের সালানপুরে একটি হাইস্পিড বাইক ছিনতাই করে রানিগঞ্জে ডাকাতি করা হয়। রানিগঞ্জে দোকানের সামনে এক পুলিশ অফিসার গুলি ছুঁড়তে থাকেন। সেই কারণে ছিনতাই করা সেই বা‌ইক নিয়েই প্রায় দু’কোটি টাকার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় তারা।

তাদেরই একজন বিবেক চৌধুরী রানিগঞ্জের জেকে নগর এলাকায় মোটরবাইকটি ফেলে দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে যায়। তারপর তারা ট্রেন ধরে বিহার পৌঁছায় । দু’দিন পর সিওয়ান পৌঁছাতেই তারা খবর পায় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের একটি দল তাদের খোঁজে এখানে চলে এসেছে। এরপরই ঝুঁকি না নিয়ে বিবেক তার এক দাদার সঙ্গে যোগ করে। সেই দাদা মেঘালয়ের পাথর খাদান বা ক্র্যাশারে পাথর কাটার যন্ত্র চালায়। সেদিক থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে সিওয়ান থেকে প্রায় হাজার কিলোমিটার দুরে খানাপাড়া এলাকায় পৌঁছে যায় বিবেক। বেশ কিছু ট্রেন পরিবর্তন করে শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার হয়ে সেখানে সে যায় বলে জানা গিয়েছে। আরো জানা গেছে, সে দাদার থাকার জায়গায় থাকত না। সে লুকিয়ে থাকত খাদানে । পুলিশ এই খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যায়। রানিগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার আসানসোল জেলা আদালতে তোলা হবে তাকে। এই ঘটনার তদন্তে বাকিদের খোঁজে বিবেককে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hey there! Ask me anything!