ASANSOL

রেল শহর চিত্তরঞ্জনে এবার চুরি ও দুষ্কৃতীদের কাজকর্ম বন্ধ করতে আরপিএফ আইজির নয়া দাওয়াই

বেঙ্গল মিরর, দেব ভট্টাচার্য। আসানসোল। পর পর বেশ কয়েকটি রেল কর্মীর বাড়িতে চুরি বা পটকাছোড়া সহ একাধিক দুষ্কৃতীদের জড়িত থাকার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চিত্তরঞ্জন রেল শহরের আরপিএফের আইজি সত্য প্রকাশ এবার নয়া উদ্যোগ নিলেন। চুরি বা দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে এবার চিত্তরঞ্জনের আরপিএফের ইন্সপেক্টর জেনারেল তথা প্রিন্সিপাল চিফ সিকিউরিটি কমিশনার সত্য প্রকাশ তার দপ্তর থেকে রেলকারখানার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান আধিকারিক সহ বিভিন্ন এরিয়া কমিটির ভারপ্রাপ্ত  প্রধান এবং আরপিএফ এর সিকিউরিটি কন্ট্রোল ও টাউনশিপের ইন্সপেক্টরদের কাছে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করলেন।

এই বিজ্ঞপ্তিতে  বলা হয়েছে দেখা যায় যেসব রেল কর্মী ঘরের তালা মেরে বাইরে যাচ্ছেন  সেই সব কোন কোন জায়গায় তালা ভেঙে রেল আবাসনে চুরির ঘটনা ঘটছে। তারা যদি কখনো বাইরে চলে যান তাহলে আরপিএফ এর সিকিউরিটি কন্ট্রোল মোবাইল নাম্বার ৮৪২০০ ৪৩ ৫৫৬ এ অবশ্যই জানিয়ে যাবেন। শুধু তাই নয় এইসব রেল আবাসনগুলির বাসিন্দারা যেন সেখানে ঠিকঠাক তালা মেরে যান ।কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যেসব আবাসিক রা থাকছেন না চলে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের আত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধব অথবা প্রতিবেশীদের সেই আবাসন দেখার জন্য বলে যাচ্ছেন। এই ক্ষেত্রেও যাদের ওইসব বন্ধ আবাসনে থাকতে বা দেখতে বলার জন্য বাড়ির মালিকরা বলে যাচ্ছেন তাদের সম্পর্কেও সিকিউরিটি কন্ট্রোল কে জানিয়ে যেতে হবে।

শুধু তাই নয়, ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যারা এভাবে ঘর বন্ধ করে যাচ্ছেন তারা অবশ্যই সেই রাস্তার যিনি নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন অথবা সেখানকার ভাইস ওয়াডেনকেও বিষয়টি একটু দেখার জন্য বলবেন। এর মধ্যে যদি কোন দুষ্কৃতী রা কোন কাজকর্ম ঘটায় তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে তা আরপিএফ এর সিকিউরিটি কন্ট্রোল কে জানাতে হবে। শুধু চুরির ক্ষেত্রেই নয় হঠাৎ যদি দেখা যায় যে কোন বড় ধরনের আওয়াজ শোনা যায় রাতের সময় অথবা কোন অচেনা ব্যক্তি ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাহলে তাও সিকিউরিটি কন্ট্রোলে তৎক্ষণাৎ জানাতে হবে। এই নিয়ে সর্বস্তরের যাতে প্রচার হয় সেই জন্য প্রতিটি বিভাগের প্রিন্সিপাল হেড অফ দা ডিপার্টমেন্ট এবং যারা বিভিন্ন এরিয়ার ভাইস ওয়াডেনের প্রতিনিধিত্ব করছেন সেইসব আধিকারিকদেরও প্রচারের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ।


চিত্তরঞ্জনের শ্রমিক সংগঠনগুলি বারবার আর পিএফ এবং পুলিশকর্তাদের কাছে সাম্প্রতিককালের সংরক্ষিত রেলশহর চিত্তরঞ্জনে বেড়ে যাওয়া চুরি এবং দুষ্কৃতিমূলক কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন ।সিটুর সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত  এবং আইএনটিইউসির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সিং ও রেলওয়ে এমপ্লয়েজ ইউনিয়নের প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়  আর পি এফ এর আইজির এই বিজ্ঞপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ।তারা বলেন যেহেতু চিত্তরঞ্জন এখন প্রচুর আবাসন খালি পড়ে আছে এবং কয়েক শো অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। কোন কোন রাস্তায় আলো জলে না সেসব ক্ষেত্রে এই নির্দেশ অবশ্যই চুরি বা দুষ্কৃতিদের দৌরাত্ম কমাতে হয়তো সাহায্য করবে।


প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য গত দুই মাসে এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে ।গত ১৯ শে জানুয়ারি সুন্দর পাহাড়ি বাজারে মিষ্টি ব্যবসায়ী জয়দেব চৌধুরী দোকান থেকে বেরোতেই দুষ্কৃতীরা তার স্কুটি ,মোবাইল, টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল। দুদিন বাদে অবশ্য চিত্তরঞ্জন পুলিশ এই ঘটনায় ঝাড়খন্ড থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে ।গত ২৮শে জানুয়ারি রাত আটটা নাগাদ দ্রুতগতিতে ৩৩বি রাস্তায় এক আবাসনে তিন যুবক দ্রুত গতিতে স্কুটি চালিয়ে আচমকা ঘরে ঢুকে পড়ে ।শেষ পর্যন্ত চিৎকার চেঁচামেচি করে তারা পালায়। গত ৩রা জানুয়ারি চিত্তরঞ্জনে একটি বাড়িতে তালা ভেঙে চুরি হয় ।গত ৫ই ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জনের গল্ফ গ্রাউন্ডে রেলের সম্পত্তি চুরি হয়। পরে অবশ্য চারজনকে গ্রেফতার করে আরপিএফ। গত ১৬ ই ফেব্রুয়ারি আচমকা দু নম্বর রাস্তার এক আবাসনে একা থাকায় রেল কর্মীর ঘরে, জোর করে বাঁচাও বাঁচাও বলে এক মহিলা ঢোকার চেষ্টা করেন ।

ওই কর্মী দরজা না খুলে পাশের বাড়িতে ফোন করলে তারা বেরিয়ে দেখেন ওই মহিলা যেখানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন তার কাছেই বাইকে দুজন এবং একটা গাড়িতে কয়েকজন রয়েছে। অর্থাৎ কোন কারণেই মহিলা যদি ঢুকে ভেতরে পৌঁছতেন তাহলে হয়তো অভিনব উপায় আরেকটা অপরাধ তৈরি হতো। প্রতিবেশীকে দেখে মহিলা সহ ওরা সকলেই পালিয়ে যায়। এর মাঝখানে একদিন রাতে একটি বাড়িতে দুষ্কৃতীরা দুটি শক্তিশালী পটকা ফাটায়। গত ১৭ ই মার্চ চিত্তরঞ্জন দুপুর বেলা দুটি রেল আবাসনে  দুষ্কৃতীরা হানা দেয় ।এর মধ্যে সিমজুরির ৮৫ নম্বর রাস্তায় ১১ বি একটি আবাসনে তালা ভেঙে লুটপাট চালাতে পারলেও আরেকটিতে তারা পারেনি। চুরি যাওয়া আবাসনে রেলের ওই কর্মী একজনকে থাকার দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। গত ১৮ ই মার্চ আর সাইট এলাকায় একটি বাড়ির তালা দুষ্কৃতীরা যখন ভাঙছিল তখন পাশের বাড়ির ভলু নামে একটি কুকুর চিৎকার করে প্রতিবেশীদের জাগিয়ে দেওয়ায় তারা ওদের তাড়া করলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। সে বাড়িতেই শেষ পর্যন্ত চুরি হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hey there! Ask me anything!