ASANSOL

আসানসোলে জঙ্গল থেকে দেহ উদ্ধারের কিনারা, বিয়েতে নারাজ, স্কুল ছাত্রী প্রেমিকাকে খুন করে ধৃত যুবক

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ আসানসোলের দক্ষিণ থানার ডামরা ১০ নং এলাকার পলাশডাঙা জঙ্গল থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার কিনারা, বলতে গেলে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই করলো পুলিশ। আড়াই বছরের প্রেম। তারই মধ্যে দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী প্রেমিকা বিয়ে করতে না চাওয়ায়, তাকে খুন করলো বছর ২১ র প্রেমিক । শুক্রবার রাতেই আসানসোলের ডামরার ১০ নং এলাকার বাসিন্দা প্রেমিক রাকেশ পাসোয়ান নামে ঐ যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আসানসোল স্টেশন রোডের ১৩ নং মোড় থেকে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ গ্রেফতার করে বলে জানা গেছে।

দুর্গাপুর থানার গোপালমাঠের ডিপিএস কলোনির বাসিন্দা মৃত স্কুল ছাত্রীর নাম রুমা পাসোয়ান (১৯) সে বেনাচিতি নেতাজি হিন্দি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়তো। মৃতার বাবা নন্দকিশোর পাসোয়ানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধৃত যুবককের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএসের ১০৩/১ নং ধারায় একটি খুনের মামলা করেছে। শনিবার সকালে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত চেয়ে ধৃতকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে তার জামিন নাকচ করে ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। যদিও, মৃতার বাবা ও পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।

এদিকে, শনিবার দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্কুল ছাত্রীর মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্কুল ছাত্রীকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। তাকে ধর্ষণ বা শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, এমন কিছু পাওয়া যায় নি।এদিন সন্ধ্যায় আসানসোল দক্ষিণ থানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি ( সেন্ট্রাল ১) বিশ্বজিৎ নস্কর এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ধৃত যুবক ঐ স্কুল ছাত্রীর প্রেমিকা ছিলো। তাদের মধ্যে আড়াই বছরের সম্পর্ক ছিলো। যুবকটি তাকে বিয়ে করতে চাইছিলো। সম্প্রতি মেয়েটি অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করা হয়। যারজন্য সে তাকে বিয়ে করতে চায়নি। সেই কারণেই সে মেয়েটিকে ডেকে এনে খুন করেছে।

তিনি আরো বলেন, ধৃত খুনের কথা স্বীকার করেছে। আরে বলেছে, সে এই কাজ একাই করেছে। তবুও, তাকে আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে আরো তদন্ত করছি। প্রসঙ্গতঃ, আসানসোল দক্ষিণ থানার ডামরা ১০ নং এলাকায় পলাশবাগান জঙ্গল থেকে এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছিল শুক্রবার সকালে। সালোয়ার কামিজ পড়া ঐ কিশোরীর গলায় কালশিটে দাগ ছিলো। তা দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিলো, তাকে গলাটিপে খুন করা হয়েছে। তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিলো না। পুলিশ তার পরিচয় জানার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতে পুলিশ জানতে পারে, মৃত কিশোরীর নাম রুমা পাসোয়ান। সে দুর্গাপুরে গোপালমাঠ এলাকার ডিএসপি কলোনির বাসিন্দা। দশম শ্রেণির ঐ ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার নাম করে বৃহস্পতিবার সকাল দশটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।

পুলিশ জানতে পারে, স্কুলে না গিয়ে প্রেমিক রাকেশ পাসোয়ানের সঙ্গে দেখা করার জন্য আসানসোলে চলে যায় সে। এর পর থেকে তার খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। স্কুল ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা বলেন, বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে বাড়ি না ফেরায় তারা মেয়ের খোঁজ করতে শুরু করেন। সেই সময়েই জানা যায়, বৃহস্পতিবার স্কুলে যায়নি রুমা। এর পরে দুর্গাপুর থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেছিল পরিবার। এদিকে শুক্রবার সকালে আসানসোলে ডামরা এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিলো না।

আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশের সন্দেহ হয়, এই দেহ গোপালমাঠের নিখোঁজ নাবালিকার হতে চলেছে। সেই মতো তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা আসানসোল জেলা হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন।স্কুল ছাত্রীর বাবা বলেন, রাকেশ পাসোয়ান নামে আসানসোলের ডামরা এলাকার বাসিন্দা ঐ যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল মেয়ের। আমার ফোনে ঐ যুবক ফোন করতো। সে বিয়ে করতে চাইছিলো। কিন্তু আমি তা চাইছিলাম না। মেয়ে সেই কথা যুবককে বলেছিলো। মৃতার বাবার অভিযোগ, রাকেশই আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করেছে। আমি তার ফাঁসি চাই।

Social Share or Summarize with AI

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hey there! Ask me anything!