পাণ্ডবেশ্বরের বৃদ্ধা ভোটারের নাম রাজ্যের ৪৪ জায়গায় ! শুরু শাসক বিরোধী তরজা
বেঙ্গল মিরর, পান্ডবেশ্বর, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ রাজ্য জুড়ে গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা নিবিড় সংশোধনের কাজ। ইতিমধ্যেই বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইনুমেরেশন ফর্ম বিলি করেছেন। এখন চলছে পূরণ করা সেই ফর্ম কালেকশান বা সংগ্রহ করার কাজ। একইসাথে করা হচ্ছে, সেই ফর্মের ডিজিটাইজেশনের কাজও।শুরু থেকেই এই এসআইআর নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক । প্রকাশ্যে এসেছে নানা অসঙ্গতিও । এইরকমই একটি অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসার পরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকায় শোরগোল পড়েছে। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও ।














রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভার ৪৪ টি জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে পাণ্ডবেশ্বরের বৈদ্যনাথপুর পঞ্চায়েতের ডিভিসি পাড়ার বাসিন্দা মায়ারানী গোস্বামী (৭০) নামে এক বৃদ্ধা ভোটারের। তার স্বামীর নাম গৌর গোস্বামী। বর্তমানে স্বামী মৃত। বৈদ্যনাথপুর পঞ্চায়েতের ৪৭ নং পার্ট বা অংশের ভোটার তিনি ।মায়ারানী দেবী বলেন, এসআইআরের জন্য যে ফর্ম দেওয়া হয়েছে, তা আমি পেয়েছি। সেই ফর্মের কিউআর কোড স্ক্যান করলে দেখা যাচ্ছে আলাদা আলাদা বিধানসভার ৪৪ টি জায়গার ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে ।
প্রতিটি তালিকাতে ভোটারের জায়গায় তার নাম মায়ারানী হিসেবে লেখা আছে। স্বামীর নামের জায়গায় গৌর নামটি থাকলেও পদবী ও এপিক নম্বর আলাদা আলাদা রয়েছে । তিনি এদিন খানিকটা অবাক হয়েই বলেন আমি যে ৪৪টি জায়গার ভোটার, সেটা আমার জানা ছিল না । কিভাবে এটা হল সেটাও বুঝতে পারছি না বলে জানান তিনি। আগে যে এলাকায় থাকতাম, সেখানে বাড়ি নিয়ে সমস্যা ছিলো। তাই আমি সেখান থেকে এখানে চলে আসি। তারপর থেকে এখানেই আছি। এখানকার বুথে ভোট দিয়ে থাকি। লোকের বাড়ি বাড়ি কাজ করি। কোনদিন কোথাও যাইনি। ঐসব জায়গায়, ভোটার হয়ে ভোট দেওয়ার কোন প্রশ্নই নেই।
বিজেপি নেতা পান্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন , এ সবই তৃণমূলের কারসাজি । এইসব ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় রেখেই তৃণমূল এতদিন ভোটে জিতে আসছে বলে কটাক্ষ তার। তিনি রাজ্যের শাসক দলের সমালোচনা করে বলেন, এই কারণেই তো তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআরের বিরোধিতা করে আসছে।
অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে বর্ধমান দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনারের গাফিলতি। ভোটার তালিকা ও এপিক কার্ড তো নির্বাচন কমিশন তৈরি করে। রাজ্য সরকার ও শাসক দল তো তা করেনা। রাজ্যের বিরোধীদল বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এসআইআর নির্বাচন কমিশনার করছেন না। এটা ঘুর পথে করছে বিজেপি। অপরিকল্পিত ভাবে এই এসআইআর করার জন্য ভোটার থেকে বিএলও চাপ সহ্য করতে না পেরে মারা যাচ্ছেন। এর দায় তো নির্বাচন কমিশনের। বৈদ্যনাথপুর এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রবিন পাল বলেন, এটা সম্পূর্ণ নির্বাচক কমিশনের দায়িত্ব ও গাফিলতি । এইরকম কিছু হয়ে থাকলে এর দায় কমিশনের। তারা তো বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে এই এসআইআর করছে।এই প্রসঙ্গে, জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঠিক কি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক তরজার পাশাপাশি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য । তারা রীতিমতো হতবাক।





