রানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সংগঠনের অস্তিত্ব নিয়ে উঠল প্রশ্ন, অভিযোগ জমি মাফিয়ারা নানান কৌশলে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সংগঠনের অস্তিত্ব নিয়ে এবার উঠল প্রশ্ন। জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিবাদের প্রশ্নে, ফের খনি শহর রানীগঞ্জের নাম, খবরে শিরোনামে উঠে এল। অভিযোগ উঠল রানীগঞ্জের দীর্ঘ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সংগঠন গুলির অন্যতম ফ্রেন্ডস ইউনিটি সেন্টার, যা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার অসহায়, দুস্থ, পড়ুয়াদের নিখরচায়, বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি, সারা বছর জুড়ে নানান সংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও সেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সেই ক্লাব সংগঠনকে জমি মাফিয়ারা নানান কৌশলে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। জানা গেছে 1965 সালে প্রতিষ্ঠিত ও রেজিস্টার অফ সোসাইটি দ্বারা 7/6/1976 সালে নথিভুক্ত এই ক্লাবটির জমি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিবাদ।














বর্তমানে এক ব্যক্তি ক্লাবের জমির মালিকানা তার রয়েছে, বলে দাবি কোরে, ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগে অভিযোগ জানালে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ক্লাব কর্তৃপক্ষ দাবী করেছে, তাদের কাছে বৈধ প্রমাণ রয়েছে, ক্লাবের যে সকল অংশ নিয়ে গঠিত, তা তাদের এক্তিয়ারভুক্ত, এছাড়াও তাদের দাবি, ক্লাব সময় মতো জমিটির খাজনা প্রদান, বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে থাকে, অর্থাৎ মালিকের যাবতীয় দায়িত্ব, ক্লাব কর্তৃপক্ষ পালন করে।
অন্যদিকে মালিক হিসেবে নিজেকে দাবি করা ব্যক্তি জানিয়েছেন তিনিও বৈধ কাগজ দেখাতে পারবেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি একজন ব্যক্তিবিশেষ কে কাঠ পুতুলের মত ব্যবহার করে, তার সুযোগ নিতে চাইছে কিছু প্রোমোটার ও অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাদের আশঙ্কা কিছু স্বার্থন্বেষী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বর কু-নজরে এই জায়গাটি পড়লে ক্লাবের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন সেবামূলক কাজ, যার মধ্যে অন্যতম রক্তদান শিবির, যোগ প্রশিক্ষণ, শরীরচর্চার মতো কাজগুলি ব্যহত হবে। একই সাথে সংকটে পড়বে দুস্থ অসহায় মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা।
উল্লেখ্য এই এক ক্লাব সংগঠন আছে, যেখানে দাবা প্রশিক্ষণের মতো প্রশিক্ষণ ও প্রদান করা হয়। আর তার সাথেই ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ারও উদ্যোগ নেয় তারা, যা অনেকটাই প্রভাবিত হবে বলেই মনে করছেন বুদ্ধিজীবী মহল। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া কিছু দেননি ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগের আধিকারিকেরা। তারা এদিন জমিটিকে পরিমাপ করে, বিভিন্ন মাপ যোগ খতিয়ে দেখার সাথেই, এর প্রকৃত মালিকানা কি রয়েছে সে সকল বিষয় গুলি আগামীতে নানান তথ্য খতিয়ে দেখে জানা যাবে বলেই দাবি করেছেন, তাদের বক্তব্যে। এখন দেখার এ সকলের পর রানীগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সংগঠন কিভাবে স্বাভাবিক ছন্দে চলে।





