আসানসোলে বিজেপির পাল্টা প্রতিবাদ সভা তৃণমূলের , এসআইআর নিয়ে একযোগে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়ার পরে এবার আসানসোলের ডামরা হাটতলা ফুটবল ময়দানে আসানসোল দক্ষিণ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রবিবার বিকেলে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। বিজেপির পাল্টা হওয়া এদিনের এই সভায় পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক, রাজ্য নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু, জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি, আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ গুরুদাস ওরফে রকেট চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল দক্ষিণ (শহর) তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পূর্ণেন্দু চৌধুরী ওরফে টিপু সহ জেলা ও ব্লকের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।














এই সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা রাজ্যে চলা এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে সরব হন। তারা চান ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ হোক। যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য নন তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা না হোক। তবে, তারাও চান না যে কোনও যোগ্য ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক। ভোটার তালিকার কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা উচিত ছিল। এখন বিজেপি নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করে ও তা এক মাসের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করে। এর ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে বেশ কিছু বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনেকে আত্মহত্যা করেছেন বা মারা গেছেন। এই সব ঘটেছে কারণ তাদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ দেওয়া হয়েছিল কাজটি করার জন্য। যা সময়ের সাথে সাথে করা উচিত ছিল। যা প্রয়োজন ছিল তা না করে, তাড়াহুড়ো করে করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিলো। এখনো প্রতিদিন নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়াকে নিয়ে ।
সভায় রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু বলেন, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে টিএমসি সরকার গঠিত হয়। তারপর থেকে, যখনই বিধানসভা নির্বাচন আসে, মনে হয় এবার টিএমসি সরকার গঠন করবে না। তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, সরকার জনগণের কল্যাণের জন্য এত বেশি কাজ করেছে যে তারা প্রতিবারই জনগণের আশীর্বাদ পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে, যখন বিধানসভা নির্বাচ হয়, তখন কংগ্রেস এবং বামপন্থীদের মধ্যে একটি জোট ছিলো। সমস্ত মিডিয়া চ্যানেলে বলা হচ্ছিল যে এবার টিএমসির পক্ষে আর সরকার করা সম্ভব হবে না। কিন্তু, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে দেখা গেল যে, দল ২০১১ সালের তুলনায় বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ২০২১ সালেও একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছিলো। ২০২১ সালে আমরা দেখেছিলাম যে বেশ কিছু তৃণমূল নেতা, যারা ভেবেছিলেন ২০২১ সালে তৃণমূল হেরে যাবে, তারা বিজেপিতে চলে গেছেন। কিন্তু তারপরেও বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা প্রকাশ করেন। ২০২১ সালেও আমাদের সরকার হয়।
এদিনের সভায় উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন খুব বেশি দূরে নয়, তাই তাদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। এদিকে, এদিনের সভায় মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, কয়েকদিন আগে, রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এখানে বিজেপির একটি সভায় বক্তব্য রাখতে এসেছিলেন। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালও সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, তিনি বিধায়ক হওয়ার পরে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও, কিন্তু তাকে তার নির্বাচনী এলাকায় দেখা যায়নি । এখন যেহেতু বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় ঘুরেঘুরে নাটক করছেন। তিনি আরো বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগে, বিধায়ক হটন রোড মোড়ে গিয়ে টোটো চালকদের হুমকি দিচ্ছিলেন। একজন বিধায়ক হিসেবে, তার উচিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তা তিনি না করে, টোটো চালিয়ে যারা খুব একটা জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাদের জীবিকা ধ্বংস করছেন। মন্ত্রী বলেন, এটাই বিজেপির কাজ। বিজেপি কখনও জনগণের কল্যাণের জন্য কিছু করেনি।অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, কিছু লোক নিজেদের ডামরার মাটির সন্তান বলে দাবি করে। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই যে তারা যদি সত্যিই এই এলাকার মাটির সন্তান হয়, তাহলে তারা ডামড়ার জন্য কি করেছেন? আসানসোল দক্ষিণের জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন না কেন এই এলাকার মানুষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী করেছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, এই আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ শূর্পনখাকে ভোট দিয়েছিলেন। যিনি তার নাক-কান কেটে চলে গিয়েছিলো গত সাড়ে চার বছর ধরে এখানে তার কোনও খোঁজ নেই। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ তাদের বিধায়ক সম্পর্কে এখন বলছেন যে “তোমার দেখা নাই রে তোমার দেখা নাই” ।
7

