আসানসোলে বাসের ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়া জখম, পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ, রাস্তা অবরোধ বিক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলে বাসের ধাক্কায় একাদশ শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়ার জখম হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়ালো। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করার অভিযোগের পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়ার চিকিৎসার খরচ দেওয়ার দাবিতে এদিন সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা আসানসোলের জিটি রোডে ভগৎ সিং মোড় অবরোধ করেন। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিক্ষোভও দেখান।














এই বিক্ষোভ অবরোধের কারণে ভগৎ সিং মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানা ও দক্ষিণ ট্রাফিক গার্ড পুলিশ এলাকায় আসে। তারা বেশ কিছুক্ষনের চেষ্টায় বিক্ষোভ দেখানো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়। আসানসোলের কুমারপুরের বাসিন্দা নেহা বাউরি নামে ঐ স্কুল পড়ুয়া জখম অবস্থায় আসানসোলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তার শারীরিক অবস্থা খারাপ। চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক টাকা চেয়েছে। কিন্তু বাসের মালিক পালিয়ে গেছে। তার মোবাইল ফোন সুইচড অফ রয়েছে। পুলিশ বাসটি আটক করে রাখলেও, তার সঙ্গে যোগাযোগ করার ব্যাপারে কোন সহযোগিতা করছে না।
জানা গেছে, নেহা বাউরি নামে স্কুল পড়ুয়া এদিন দুপুরে কুমারপুর থেকে কম্পিউটার পড়তে আসছিলো। সেই সময় ভগত সিং মোড়ে একটি বাসের ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ ট্রাফিক গার্ড পুলিশ এসে বাস ও চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে আহত নেহাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা আর খারাপ হয় এবং তাকে অন্য জায়গায় রেফার করা হয়।এদিন সন্ধ্যায় নেহার পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্যরা ভগত সিং মোড়ে রাস্তা অবরোধ করেন। যাদব বাউরি সহ পরিবারের সদস্যরা বলেন, দুর্ঘটনার সময় বাস মালিক আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি নেহার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবেন। এখন নেহাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। কিন্তু বাস মালিকের ফোন বন্ধ।
নেহার পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন যে বাস মালিক আগে যে আশ্বাস দিয়েছিলেন তা বিবেচনা করে এখন কেন এমন করছেন। তারা বলেন যে নেহার বাবা একজন দিনমজুর। তিনি কোনভাবে ধার করে ১ লক্ষ টাকা জোগাড় করতে পেরেছেন। কিন্তু এখন, যদি বাস মালিক তার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করেন, তাহলে তার জীবন বাঁচানো কঠিন হবে। পুলিশ প্রশাসন তো হাত তুলে বলছে যে বাস মালিকের ফোন বন্ধ। তাহলে তারা কি করতে পারে? নেহার পরিবারের সদস্যরা বলেন, সর্বোপরি, পুলিশ প্রশাসনের কাজ কি ? যদি তাদের ফোন বন্ধ থাকে, তাহলে পুলিশের উচিত ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাস মালিককে নেহার চিকিৎসার খরচ বহন করতে বাধ্য করা।পুলিশ জানায়, গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাস মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হচ্ছে।

