বার্নপুরে রেলক্রসিংয়ে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা
তৎপরতার সঙ্গে ট্রেন থামালেন চালক, গেটম্যানের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ
বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়:* দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের বার্নপুর স্টেশন ও পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের আসানসোল স্টেশনের মাঝে বার্নপুরের ধ্রুপডাঙ্গা রেলক্রসিং একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলো। সেই সময় রেলক্রসিং পার করার জন্য অপেক্ষায় থাকা লোকজনের তৎপরতা এবং ট্রেন চালক বা পাইলটের সতর্কতায় অনেকের জীবন রক্ষা পেয়েছে। রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটেছে। রেলক্রসিংয়ের দু’ধারে থাকা গাড়ি চালক ও এলাকার বাসিন্দা পথচারীরা গাফিলতির অভিযোগ তুলে গেটম্যানের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তারা অভিযোগ করেন, গেটম্যান ট্রেন আসার ঠিক আগের মুহুর্তে রেলক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করেন। তারা মারমুখী হয়ে উঠলেও, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিছুক্ষনের মধ্যে এলাকার বাসিন্দাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।














জানা গেছে, রবিবার বিকেল ৩:৫৮ মিনিটে আসানসোল থেকে বার্নপুরে যাচ্ছিলো আসানসোল-বরভূম মেমু ট্রেন। কিন্তু হঠাৎ করে ধ্রুপডাঙ্গা রেলক্রসিংয়ের কাছে এসে কিছুক্ষণের জন্য থেমে যায়। বলা যেতে পারে যে, ট্রেনের চালক বা পাইলট কিছু একটা হয়েছে বুঝতে পেরে সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে ঠিক ক্রসিংয়ের কাছে ট্রেন থামিয়ে দেন। ট্রেন আসার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে গেটম্যানকে গেট বন্ধ করার অভিযোগ করে ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে রাস্তার দুধারে থাকা লোকজনেরা তার দিকে মারমুখী হয়ে তেড়ে যান।
তারা অভিযোগ করেন যে, ট্রেনটি সময়মতো না থামলে অনেক লোক মারা যেতে পারতো ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো।
এদিকে, নিজের ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে, গেটম্যান তার আগে রেলক্রসিংয়ে থাকা গেটম্যানকে দোষারোপ করেন। তিনি দাবি করেন যে, দুটি গেটের একটি যৌথ সংকেত রয়েছে। তা সেই দেয়নি। তার দাবি, ট্রেন তো গেট অতিক্রম করেনি। তার আগে ট্রেন থামে ও সে গেট বন্ধ করেন।
যদিও লোকজন দাবি করেছেন যে সিগন্যাল না থাকায় ট্রেনটি ক্রসিংয়ের আগে থেমে গেছিলো, দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য। ট্রেনটি আসার ঠিক আগে পর্যন্ত ক্রসিংয়ের গেট খোলা ছিল।
এই সময়, রেলক্রসিংয়ের দুপাশে অসংখ্য দুচাকা এবং চারচাকা গাড়ি দাঁড়িয়েছিলো। এর পাশাপাশি ,অনেক লোক পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন । এই ঘটনার পরে রেলক্রসিং থাকা সত্ত্বেও রেলের ভূমিকা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
তবে, এই ঘটনা নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। রেল আধিকারিকদের ফোন করা হলেও, কোন উত্তর মেলেনি।


