আসানসোলে শাশুড়ি খুনে ধৃত বৌমা, পাকড়াও ভিন রাজ্যের সঙ্গী, ৮ দিনের পুলিশ হেফাজত
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* শাশুড়ি খুনের ঘটনার জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হলো ছোট ছেলের বউ বা বৌমা। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সঙ্গী ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও। আসানসোল উত্তর থানার বারাবনি বিধানসভার লালগঞ্জের বাসিন্দা ধৃত বৌমা রিয়া রায়কে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গী ঝাড়খণ্ডের ডাল্টনগঞ্জের বাসিন্দা সমীর আলমকে আসানসোলের জিটি রোডের ভগৎ সিং মোড় এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে পাকড়াও করে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। মৃতার নাম মৌ রায়। শুক্রবার ধৃতদেরকে আসানসোল আদালতে পেশ করে পুলিশকে দু’জনকেই নিজেদের হেফাজতে চায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।














শুক্রবার সকালে আসানসোলে এক সাংবাদিক আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস এই ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, বারাবানি বিধানসভা কেন্দ্রের লালগঞ্জ এলাকায় মৌ রায় নামে এক মহিলাকে গত ১৬ জানুয়ারি রাতে তার বাড়িতে অচৈতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদেরকে জানানো হয় যে তিনি মারা গেছেন। তারা হাসপাতাল থেকে মহিলাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন মৃত মহিলার ছেলে লক্ষ্য করেন, মায়ের গলায় কিছু চিহ্ন রয়েছে। তিনি আরো দেখেন যে, মা যেসব গয়না পরেছিলেন তা নেই । এরপর আসানসোল উত্তর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ আসে। পুলিশ মহিলাকে আসানসোল জেলা নিয়ে যায়।
সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরের দিন আসানসোল জেলা হাসপাতালে মহিলার মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানতে পারে, মহিলাকে গলায় দড়ি জাতীয় কিছুর ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছে। ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) আরো বলেন, এই ঘটনার ১৩ দিন আগে গত ৩ জানুয়ারি মৃত মৌ রায় তার ছোট পুত্রবধূ রিয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসানসোল উত্তর থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেছিলেন। মৃত মৌ রায়ের ভাই একটি খুনের মামলা দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায় যে রিয়া রায়ের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছে। যে ঝাড়খণ্ডের ডাল্টনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয় যে রিয়া রায় এবং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডাল্টনগঞ্জের বাসিন্দা এই রহস্যময় মৃত্যুর সাথে জড়িত থাকতে পারে। পরে পুলিশ ডাল্টনগঞ্জের ঐ যুবকের সন্ধান শুরু করে। কিন্তু তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে জানা যায় ঐ যুবক আসানসোলে এসেছে। এরপর পুলিশের একটা দল বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোলের ভগত সিং মোড় থেকে সমীর আলম নামে ঐ যুবককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে মৌ রায়কে খুন করার কথা স্বীকার করে। এর পাশাপাশি সে রিয়া রায়ও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায়। এরপর মৌ রায়কে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন দুজনকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়েছে। দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তের জন্য দু’জনকে আরো জেরা করা হবে । ডিসিপি ( সেন্ট্রাল)ধ্রুব দাস জানিয়েছেন যে ডাল্টনগঞ্জের এই যুবক আসানসোলে এসে একটি হোটেলে থাকতো। সেই হোটেলের ঘর থেকে মৃত মহিলার গয়নাও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। জানা গেছে, রিয়া রায়ের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডের ঐ যুবকের পরিচয় হয়।
9







