বার্নপুরে দোকানদারের উপর সশস্ত্র দুষ্কৃতি হামলার অভিযোগ, মৃত্যুতে চাঞ্চল্য , তদন্তে পুলিশ
বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কাক ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে এক গ্রিল দোকানদারের উপরে সশস্ত্র দুষ্কৃতি হামলা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আসানসোলের হিরাপুর থানার বার্নপুরের করিম ডাঙ্গাল এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় বাইক আরোহী দুষ্কৃতিরা ৩৫ বছর বয়সী এক গ্রিল দোকানদার মহঃ সরফুদ্দিনের উপর নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে হামলা চালায়। গুরুতর আহত দোকানদারকে তার পরিবারের সদস্যরা আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গোটা ঘটনার খবর পেয়ে, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি (হিরাপুর) ইপ্সিতা দত্তের নেতৃত্বে হিরাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।














পুলিশ আধিকারিকরা মৃত দোকানদারের পরিবারের সদস্যদের কথা বলেন। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিরাপুর থানার বার্নপুরের করিম ডাঙ্গালের বাসিন্দা মহঃ সরফুদ্দিন শনিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। সেই সময় রাস্তায় সরফুদ্দিনের কাছে মোটরবাইকে করে দুই দুষ্কৃতি আসে। সরফুদ্দিন কিছু বুঝে উঠার আগেই দুষ্কৃতিরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সরফুদ্দিনের গায়ে সরাসরি গুলি না লাগলেও তিনি পড়ে যান ও তার নাকে গুরুতর আঘাত লাগে। গুলি চালানোর পরে দুষ্কৃতিরা ঘটনাস্থলেই তাদের পিস্তল ফেলে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা গুরুতর আহত সরফুদ্দিনকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। যেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই খবর পেয়ে এসিপি ইপ্সিতা দত্ত এবং সিআই অশোক সিং মহাপাত্রের নেতৃত্বে হিরাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে পৌঁছায়। মৃতের ভাই মহঃ জয়নুল বলেন, আমার দাদার সরফুদ্দিনের একটি গ্রিল এবং রডের দোকান আছে। কারোর সাথে তার কোনও শত্রুতা ছিল না। এদিন ভোরবেলা একটি গাড়িতে করে অজ্ঞাত দুষ্কৃতিরা এসে তাকে গুলি করে। এলাকার বাসিন্দারাও কেউ বুঝতে পারছেন না যে কি করে এই ঘটনা ঘটেছে। কারণ সরফুদ্দিনের কারোর সাথে কোনও বিবাদ ছিল না । মৃতরা পাঁচ ভাই।এই ঘটনা নিয়ে মৃতের ভাইপো মহঃ সানু জানিয়েছেন যে, তার মা তাকে ঘুম থেকে তুলে, বলেন যে তার কাকা সরফুদ্দিনের উপর আক্রমণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা লোকেরা কেবল দর্শক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার চাচা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং কাছেই একটি বন্দুক পড়ে ছিল। মহঃ সানু আরো জানিয়েছেন যে পরিবারের সদস্যরা সরফুদ্দিনকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার স্পষ্ট কথা, যে কাকা গুলির আঘাতে মারা যাননি। বরং, নাকে গভীর আঘাত বা অন্য কোনও কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ভোরের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল এবং একটি গুলির খোল উদ্ধার করেছে।পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, এই ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিদের শনাক্ত করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং পরিবারের সদস্যদের কথা কথা বলে গোটা ঘটনা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আসানসোল জেলা হাসপাতালে মৃতদেহর ময়নাতদন্তের পরে জানা যাবে, ঠিক কি করে ঐ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।


