আসানসোলের সাতটি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, একাধিক নাম নিয়ে জল্পনা
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ বাংলার রাজনীতিতে এখন ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার অপেক্ষা। সেই নির্বাচনের দাবার বোর্ড ইতিমধ্যেই সাজানো। এখন প্রতিটি চালই চলছে অত্যন্ত হিসেব কষে। বিধানসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও না হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ এখনই চরমে পৌঁছেছে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারই মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে তীব্র তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দলীয় অন্দরমহল থেকে রাজনৈতিক মহল—সব জায়গায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, *কোন আসনে কে পাচ্ছেন টিকিট?*















দলীয় সূত্রের খবর, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ টিএমসির রাজ্য নেতৃত্ব। দলের সুপ্রিম তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেকেন্ড ইন কমান্ডা অভিষেক বন্দোপাধ্যায় প্রতিটি বিধানসভায় এবার প্রার্থী নিয়ে কোনরকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না বলে খবর। সেই কারণেই বর্তমান বিধায়কদের কাজকর্মের মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় মুখগুলিকেও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে বর্তমান বিধায়কদের পাশাপাশি প্রবীণ দলীয় নেতা, সেলিব্রিটি মুখ এমনকি প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিকদের নামও উঠে আসছে সমীক্ষায়।এই গোটা প্রক্রিয়ায় সমীক্ষা সংস্থাগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংস্থা ময়দানে নেমে খতিয়ে দেখছে, কোন নেতা জনতার মধ্যে কতটা গ্রহণযোগ্য, কোন এলাকায় সরকারের কাজের প্রভাব কতখানি এবং কাকে সামনে রাখলে ভোটের বৈতরণী পার করা সম্ভব। জানা যাচ্ছে, এবি টিম, আইপ্যাক এবং গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টও সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছচ্ছে। প্রতিটি বিধানসভায় ক্ষেত্রেই তা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, এই সমস্ত সমীক্ষা রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রার্থীদের নামের উপর চূড়ান্ত সিল পড়তে পারে। ঘাষফুল শিবিরে কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে টিএমসি তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে এবং বিরোধীদের প্রস্তুতির সময় কমিয়ে দেওয়া যায়।এরই মধ্যে দলের ভেতরে টিকিটপ্রত্যাশীদের অস্থিরতা স্পষ্ট। কলকাতা থেকে জেলা—সব জায়গাতেই বেড়েছে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ।
কেউ জোরদার করছেন জনসংযোগ, কেউ আবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজের “রিপোর্ট কার্ড” পৌঁছে দিতে ব্যস্ত।স্পষ্ট ইঙ্গিত, এবার টিকিট বণ্টন শুধু সংগঠনগত সমীকরণে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তথ্য, সমীক্ষা এবং মাটির স্তরের প্রতিক্রিয়ার ত্রিমুখী বিশ্লেষণের উপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কে বাজিমাত করবেন আর কার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হবে—তা আগামী কয়েক সপ্তাহেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের বিধানসভা কেন্দ্র গুলিতে *বিভিন্ন সমীক্ষায় যেসব নাম উঠে আসছে—
***আসানসোল উত্তর:*মলয় ঘটক ( বর্তমান বিধায়ক ও রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী) , অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়( আসানসোল পুরনিগমের চেয়ারম্যান) , আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ( প্রাক্তন আমলা), সুদেষ্ণা ঘটক( সমাজকর্মী তথা মন্ত্রী মলয় ঘটকের স্ত্রী) , গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় ( আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ) *আসানসোল দক্ষিণ :*মনোজ তিওয়ারি (ক্রিকেটার), ইমন চক্রবর্তী (গায়িকা) ও অশোক রুদ্র( রাজ্যের শিক্ষক নেতা ও আসানসোল পুরনিগমের কাউন্সিলার)*রানিগঞ্জ:*বাবুল সুপ্রিয় ( আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ ও বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রী) , তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়( বর্তমান বিধায়ক) কবি দত্ত ( আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা আড্ডার চেয়ারম্যান) , পার্থ দেওয়াসি ( যুব নেতা)*জামুড়িয়া:*হরেরাম সিং ( বর্তমান বিধায়ক) , সোনালি কাজি( শিল্পী তথা বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্য)ও সুব্রত অধিকারী ( আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ)। *কুলটি:*পার্ণো মিত্র (অভিনেত্রী), উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় ( প্রাক্তন বিধায়ক) ও মলয় ঘটক ( রাজ্যের মন্ত্রী ও আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিধায়ক) *পাণ্ডবেশ্বর:*নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী( বর্তমান বিধায়ক তথা দলের জেলা সভাপতি) , শুভশ্রী গাঙ্গুলি ( অভিনেত্রী) , ভি. শিবদাসন ওরফে দাসু ( দলের রাজ্য সভাপতি তথা জেলা পরিষদের মেন্টর), উত্তম মুখোপাধ্যায় ( জেলা নেতা। *বারাবনিঃ* বিধান উপাধ্যায়( বর্তমান বিধায়ক তথা আসানসোল পুরনিগমের মেয়র) ও একজন অভিনেত্রী ও এক সমাজকর্মী। তবে, জানা গেছে, এই বিধানসভাগুলির কুলটি ও আসানসোল দক্ষিণ গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়েছিলো। দুটিতেই বিজেপি জেতে। এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুটি কেন্দ্র জিততে জোর দিয়েছেন। আরো জানা গেছে, বাকি পাঁচটি কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়কদের রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


