পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে পূজো হয় ৭০০ বছরের দলদলি কালীর
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : এখনো রীতিমেনে পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে হয় মা দলদলি কালী পুজো। জামুরিয়ার চিচুুড়িয়া গ্রামে মা কালী, মা চন্ডী, মা তারা রূপে পূজিত হয়ে আসছেন দীর্ঘ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জাগ্রত মা দলদলি কালী। কয়েকশো বছর পূর্বে গাছের নিচেই মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি এই পূজার আয়োজন করা হয়। সেই রীতিমেনে হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, এই বিশেষ তিথিতে রটন্তী কালী পূজা ও দশমহাবিদ্যার অন্যতম মা বগলামুখীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই তিথিতেই পুজো হয় মা দলদলি কালীর।















জামুরিয়া চিচুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাহুকা গ্রামে দীর্ঘ প্রায় দেড়শো বছর ধরে, কারো কারো মতে প্রায় সাতশো বছর আগে এই পুজো করে আসেন গ্রামেরই চক্রবর্তী ও দত্ত পরিবারের সদস্যরা। পূর্বে এখানে মন্দির স্থাপন না হলেও বর্তমানে মায়ের বেদীর সামনে বট গাছের নিচেই মন্দির গড়ে তুলেছেন ভক্তরা। এবারও সেই বিশেষ দিনে এই পুজো এলাকার মানুষজনেদের কাছে আরো স্মরণীয় করে তোলার লক্ষ্যে ছয় দিনের মেলার আয়োজনও করেছেন উদ্যোক্তারা। পুজোর প্রথম দিনই মা কালীর মূর্তিকে কাঁধে করে নিয়ে ঘোরানো হয় সমস্ত গ্রাম, জানা যায় মাকুড়ি সপ্তমীর দিন থেকেই মায়ের মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয় এরপর এই বিশেষ দিনে স্থাপন করা হয় মাকে মন্দিরে চলে রাতভর পুজো।
হাজারো হাজার ভক্ত পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও পাশের জেলা বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া থেকে হাজির হয়। এমনকি অন্য রাজ্যের থেকেও বহু ভক্ত মানত পূরণের জন্য হাজির হন মন্দিরে। বছরের এই বিশেষ দিনে মায়ের পুজোয় ব্রতী হন সকলে। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে মায়ের মূর্তিকে পরিক্রমা করানো হয় সমগ্র গ্রাম। পূর্বে একদিনের এই পুজোর আয়োজন থাকলেও এবার সেই পুজোকে ঘিরেই মেলার আসরে বসছে। থাকছে ছয় দিন ধরেই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার নানান কর্মসূচি। জি সা রে গা মা পা এর শিল্পী থেকে শুরু করে বিভিন্ন যাত্রা দলের শিল্পীরা, তারা তাদের শিল্প সত্তা এই মেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চে তুলে ধরবে বলে জানা গেছে। আর এ সকলের সাথেই বিভিন্ন নাগরদোলা ও ভোজন রসিকদের খাবারের নানান স্টল এই মেলা কে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

