ASANSOL

” যুব সাথী ” প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ অগ্নিমিত্রা পালের, বাংলায় কর্মসংস্থান নিয়ে শাসক দল ও সরকারকে আক্রমণ

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল মঙ্গলবার আসানসোলে তার বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সম্প্রতি, অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্য বিধানসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। যার তীব্র বিরোধিতা করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন সেই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সম্পর্কে আমার বক্তব্যকে যথাযথ দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা দরকার। গত ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এই ১৫ বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য কোনও উন্নয়ন হয়নি।

বাংলার বিজেপি বিধায়কেরা রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন যে গত ১৫ বছরে কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবককে প্রশাসনের উচ্চ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবকদের কেবল ভোট ব্যাংকের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তারা সেই অর্থে কোন উন্নয়ন দেখেনি। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আমি একই মতামত প্রকাশ করেছিলাম। তিনি বলেন, আজ বাংলায় হুমায়ুন কবির, এআইএমআইএম ও নওশাদ সিদ্দিকীর মতো মানুষেরা দল তৈরি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বি-টিম হিসেবে কাজ করছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস বাংলাদেশের মতো জামাতের বি টিম।

কর্মসংস্থানের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের জবাবে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেন যে বাংলায় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদি তাই হতো তাহলে কেন সদ্য রাজ্য সরকারের শুরু করা যুব সাথী প্রকল্পে নাম রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য যুবক যুবতীদের এত দীর্ঘ লাইন থাকতো না। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যুব কর্মসংস্থানের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। এই কারণেই এখানকার বেকার যুবকরা ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাংলায় একটি করে বাণিজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনও রাজ্যে করা বিনিয়োগ এবং খোলা কারখানার সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও শ্বেতপত্র জারি করেনি।

বিজেপি বিধায়ক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। যাতে বাংলার যুবকরা সরকারকে প্রশ্ন করতে না পারে। অগ্নিমিত্র পাল, যুব সাথীর সাথে, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, এই প্রকল্পের জন্য নথি জমা দেওয়া যুবকদের কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। এই রসিদের কারণে, যুবকদের কাছে কোনও নথি জমা দেওয়া হয়েছে কিনা তার কোনও প্রমাণ নেই। বিজেপি বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, আসন্ন বাংলা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পেতে প্রার্থীদের দলকে টাকা দিতে হবে। প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে যে তারা যদি নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে তারা দলকে যে কোনও অবৈধ কাজ করতে পারবে। সে সেই কাজ থেকে যে টাকা তুলবে, তার ৭৫% টাকা দলকে দিতে হবে। আর মাত্র ২৫% টাকা তিনি রাখতে পারবেন। বিজেপি বিধায়ক এও অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসে বিধায়ক নির্বাচনের জন্য টিকিট বিক্রি করা হয়।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hey there! Ask me anything!